রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে জার্মান কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে মস্কো। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কনস্যুলেটটির কার্যক্রম বন্ধ করতে বলা হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে কনস্যুলেটের সব কূটনীতিক ও কর্মীকে রাশিয়া ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নির্দেশের কথা জানায়। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মস্কো ও বার্লিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত এলো।
রাশিয়ার এ পদক্ষেপকে জার্মানির নেওয়া সিদ্ধান্তের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত সপ্তাহে জার্মানি দেশটিতে থাকা রাশিয়ার দুটি কূটনৈতিক স্থাপনা বন্ধ করে দেয়। লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে একটি ব্যর্থ ড্রোন হামলার ঘটনায় মস্কোর ভূমিকা থাকার অভিযোগ তুলে এ সিদ্ধান্ত নেয় বার্লিন।
সোমবার টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে, জার্মানি ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে’। এ পরিস্থিতির পরিণতির জন্য জার্মানিই ‘সম্পূর্ণ দায়ী’ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
রোববার রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ লাইপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার অভিযোগ নিয়ে জার্মানির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এই অভিযোগ ‘বাস্তব যুদ্ধের শুরুর’ ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই মস্কো ও বার্লিনের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এখন সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ইউক্রেনের অন্যতম শক্তিশালী ইউরোপীয় সমর্থক হিসেবে জার্মানি কিয়েভকে বড় ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনকে ৫ হাজার কোটি ডলারের বেশি বেসামরিক সহায়তা এবং প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে জার্মানি।
লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে ব্যর্থ ড্রোন হামলার অভিযোগ ঘিরে গত সপ্তাহে দুই দেশের উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অভিযোগটি নাকচ করে দিয়ে দাবি করেন, এ ঘটনার প্রমাণ ‘সাজানো’ হয়েছে।
অভিযোগ প্রকাশের পর জার্মানি বন শহরে রাশিয়ার কনস্যুলেট জেনারেল এবং বার্লিনে রুশ হাউস সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মস্কো জার্মানির গোয়েথে ইনস্টিটিউটের সব শাখা বন্ধের নির্দেশ দেয়। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদেরও রাশিয়া ছাড়তে বলা হয়েছে।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভ জার্মানির কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্তকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত তাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। জার্মানি আবারও যুদ্ধ চায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।









