পাকিস্তানে সানা ইউসুফ (১৭) নামে এক কিশোরী সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারকে হত্যার দায়ে উমর হায়াত (২৩) নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। গত বছরের জুন মাসে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
বুধবার (২০ মে) সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
গত বছর জুলাই মাসে উমর হায়াত তার অপরাধ স্বীকার করে জানান, অনলাইনে কিছু আলাপচারিতার পর সানা ইউসুফের প্রতি তার একতরফা মোহ তৈরি হয়েছিল। সানা ইউসুফ বারবার তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে হায়াত জোর করে তার বাড়িতে ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যা করে।
এ ঘটনায় উমর হায়াতকে মৃত্যুদণ্ড ও সানা ইউসুফের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২৫ লক্ষ রুপি প্রদানেরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সানা ইউসুফের বাবা সৈয়দ ইউসুফ হাসান বলেছেন, ইসলামাবাদ আদালতের হায়াতকে দেয়া মৃত্যুদণ্ডের এই রায় সমাজের এ ধরনের সকল অপরাধীদের জন্য একটি শিক্ষা।
তদন্ত চলাকালীন হায়াত জানান, হত্যার কয়েকদিন আগে সে সানা ইউসুফকে তার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে ইসলামাবাদে গিয়েছিল। এসময় সানা ইউসুফ দেখা করতে রাজি না হওয়া সত্ত্বেও সে জোর করে তার বাড়িতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। পরে সেখানে দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়, যা পরবর্তীতে হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।
মৃত্যুর আগে টিকটকে ইউসুফের দশ লাখেরও বেশি এবং ইনস্টাগ্রামে আরও পাঁচ লাখ ফলোয়ার ছিল। ফ্যাশন ট্রেন্ড ফলো করা, গানের সাথে লিপ-সিঙ্ক করা এবং বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার মতো হালকা মেজাজের কন্টেন্টের জন্য তিনি ভক্তদের কাছে খুব জনপ্রিয় ছিলেন।
অ্যাক্টিভিস্টরা বলেছেন, সানা ইউসুফের হত্যাকাণ্ড পাকিস্তানে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার একটি বৃহত্তর ধারার অংশ।
সানা ইউসুফের মৃত্যুতে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করলেও, একজন ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে তার কাজের বিরুদ্ধেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘বলো ভি’-এর পরিচালক উসামা খিলজি বলেন, এই ধরনের সমালোচনা মূলত পুরুষ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের একটি ক্ষুদ্র অংশের কাছ থেকে আসছে, যাদের মধ্যে কেউ কেউ ধর্মীয় কারণ দেখিয়েছেন।
বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ফারজানা বারি এই প্রতিক্রিয়াকে “নারীবিদ্বেষী” এবং “পিতৃতান্ত্রিক” বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, অনলাইনে এই আলোচনা এটাই মনে করিয়ে দেয় যে, পাকিস্তানে সামাজিক মাধ্যম “নারী কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য একটি অত্যন্ত ভীতিকর জায়গা” হয়ে উঠেছে।









