২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। এবার ঘরের মাঠেও অপ্রতিরোধ্য টিম টাইগার্স। মিরপুরে শতাধিক রানের জয়ের পর সিলেটেও অদম্য নাজমুল হোসেন শান্তর দল। রেকর্ডতাড়ার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বল হাতে দাপট দেখিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। লড়াই করলেও টাইগার স্পিনারের ৬ উইকেটে হার মানতে হয়েছে সফরকারীদের। ৭৮ রানে জয় তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে টানা দুই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
শনিবার সিলেট টেস্টের প্রথমদিনে টসে হেরে আগে ব্যাটে নামে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রানে থামে স্বাগতিক দল। জবাবে ২৩২ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। ৪৬ রানের লিড পেয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে ৩৯০ রানে অলআউট হয় টিম টাইগার্স। নাজমুল হোসেন শান্তদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪৩৬ রান। বড় লক্ষ্যে নেমে ৯৭.২ ওভারে ৩৫৮ রানে থামে সফরকারীদের দ্বিতীয় ইনিংস। ঘরের মাটিতে পাকিস্তানে প্রথমবার হোয়াইটওয়াশ করার স্বাদ পেল বাংলাদেশ।
বুধবার শেষদিনে পাকিস্তানের লাগতো ১২১ রান, আর বাংলাদেশের ৩ উইকেট। মোহাম্মদ রিজওয়ান ৭৫ ও সাজিদ খান ৮ রানে শুরু করেন। ওয়ানডে মেজাজের ব্যাটিংয়ে ক্রমেই বাংলাদেশের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় এই জুটি। অষ্টম উইকেটে ৫৪ রান করে বিপদ বাড়ান টাইগারদের। তখনই ত্রাতা হয়ে আসেন তাইজুল। দলীয় ৩৫৮ রানে সাজিদকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন, স্বস্তি ফেরে টাইগারদের মাঝে। স্লিপে নাজমুল হাসান শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৩৬ বলে ২৮ রান করা সাজিদ।
এরপর আর স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ করার সুযোগ পায়নি পাকিস্তান। পরের ওভারেই রিজওয়ানকে ফেরান শরিফুল ইসলাম। পঞ্চম দিনে নিজের প্রথম স্পেলে এসেই উইকেট নেন টাইগার পেসার। গালিতে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রিজওয়ান। ১০ চারে ১৬৬ বলে ৯৪ রান করেন।
পরের ওভারে তাইজুলের বলে ছক্কা হাঁকাতে চেয়েছিলেন খুররাম শেহজাদ। তবে লং অনে ধরা পড়েন তানজিদ তামিমের হাতে। তাতে বুনোউল্লাসে মাতে টিম টাইগার্স। ৭৮ রানে সিলেট টেস্টে জয় তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে লাল-সুবজের দল।
দ্বিতীয় ইনিংসে রিজওয়ানের ৯৪ রানের পাশাপাশি সালমান আগা ও শান মাসুদ ৭১ রান করে করেন। বাবর আজম ৪৭, সাজিদ ২৮ এবং আজান আওয়াইস ২১ রান করেন।
বাংলাদেশ বোলারদের মধ্যে তাইজুল ৩৪.২ ওভারে ১২০ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন। টাইগার স্পিনারের ১৮তম পাঁচ বা তার বেশি উইকেট শিকারের কীর্তি এটি। এছাড়াা নাহিদ রানা ২ উইকেট এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ও শরিফুল ইসলাম একটি করে উইকেট নেন।
এর আগে শনিবার প্রথম ইনিংসে ৭৭ ওভারে ২৭৮ রান করে বাংলাদেশ। লিটন দাস ১২৬ রান করেন। শান্ত ২৯, তানজিদ তামিম ২৬, মুশফিকুর রহিম ২৩ এবং মুমিনুল হক ২২ রান করেন।
পাকিস্তানের হয়ে খুররম শেহজাদ ৪ উইকেট, মোহাম্মদ আব্বাস ৩, হাসান আলি ২ এবং সাজিদ খান ১টি করে উইকেট নেন।
জবাবে নেমে ৫৭.৪ ওভারে ২৩২ রানে থামে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস। সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন বাবর আজম। সাজিদ খান ৩৮ এবং সালমান আগা ও শান মাসুদ ২১ রান করে আনেন।
টাইগার বোলারদের মধ্যে তাইজুল ও নাহিদ ৩টি করে, তাসকিন ও মিরাজ নেন দুটি করে উইকেট।
৪৬ রানে এগিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে ১০২.২ ওভার ব্যাট করে ৩৯০ রান করে বাংলাদেশ। ১৩৭ রান করেন মুশফিকুর রহিম। লিটন ৬৯, মাহমুদুল হাসান জয় ৫২ রান করেন। মুমিনুল হক ৩০ এবং তাইজুল ২২ রান করেন।
দ্বিতীয় ইনিংসেও বল হাতে আলো ছড়ান খুররাম শেহজাদ। ৪ উইকেট নেন। সাজিদ খান নেন ৩ উইকেট। হাসান আলি দুটি এবং মোহাম্মদ আব্বাস নেন একটি করে উইকেট।









