চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • চ্যানেল আই টিভি
  • আরও
    • কর্পোরেট নিউজ
    • কৃষি
    • তথ্যপ্রযুক্তি
    • মতামত
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

৩ আগস্ট থেকে ৫ আগস্ট: গণভবন ও সেনা সদরের ভেতরে যা ঘটেছিল

আব্দুল্লাহ আল সাফি by আব্দুল্লাহ আল সাফি
1:28 অপরাহ্ন 05, আগস্ট 2026
in - সেমি লিড, বাংলাদেশ
A A
-4 Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, গণভবনের রান্না শেষ হয়েছিল সেদিন। খাবার তৈরি, কিন্তু খাওয়ার সময় আর হয়নি। দুপুরে ব্যক্তিগত কিছু জিনিসপত্র গুছিয়ে দ্রুত বেরিয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। বেলা ২টা ২৫ মিনিটে গণভবনের পেছনে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ থেকে বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে আকাশে ওঠে।

কিন্তু ওই দিনটা হঠাৎ আসেনি। তার আগের ৭২ ঘণ্টায় রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে যা ঘটেছিল, সেটাই ঠিক করে দিয়েছিল বিদায়ের ধরনটা কেমন হবে।

আন্দোলন যেভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেল

২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ছাত্রদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবেই বেগ পেতে থাকে। কিন্তু সরকার বল প্রয়োগের পথে যায়। নির্বিচার গুলি আর মানুষ হত্যার খবরে পরিস্থিতি দিন দিন উত্তাল হয়। আন্দোলনে যুক্ত হতে থাকেন নানা শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ।

১৯ জুলাই থেকে কারফিউ দিয়ে মাঠে নামানো হয় সেনাবাহিনীকে। তাতেও পরিস্থিতি সামলানো যায়নি। ঠিক এই জায়গা থেকেই পরে একটা প্রশ্ন সরকারের ভেতরে ঘুরপাক খেতে শুরু করে, কারফিউ আর সেনা মোতায়েনে যদি কাজ না হয়, তাহলে জরুরি অবস্থা জারি করে আদৌ কিছু হবে কি না।

৩ আগস্ট: সেনা সদরের দরবার

এমন অবস্থায় ৩ আগস্ট সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে সেনা সদরে দরবার ডাকেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সেই বৈঠকে কর্মকর্তাদের বক্তব্যে একটা অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তাঁরা জনগণের বুকে গুলি চালাবেন না।

যুক্তিটা ছিল সোজা। সেনাবাহিনীর অস্ত্র এতটাই প্রাণঘাতী যে বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে সেটা ব্যবহার করা যায় না। এপিসিগুলোতে থাকে ১৪ দশমিক ৫ ক্যালিবারের গুলি। একটি গুলিতেই পাঁচ থেকে সাতজনের প্রাণ চলে যেতে পারে।

বাইরের চাপও তখন এক দিকেই যাচ্ছিল। রাজপথে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষ সেনাবাহিনীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছিলেন। অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে রাস্তায় নামেন। সব মিলিয়ে সেনাবাহিনী সিদ্ধান্ত নেয়, তারা জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে না।

সেনাবাহিনীর বৈঠকে উপস্থিত সেনা কর্মকর্তারা. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসার্স অ্যাড্রেস, ৩ আগস্ট, ২০২৪। ছবি: আইএসপিআর

একই সময়ে পুলিশের ভেতরেও একই আলোচনা চলছিল। বিভিন্ন ব্যাচের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের গ্রুপে ৩ আগস্ট থেকে প্রশ্ন উঠতে থাকে, এভাবে মানুষের ওপর সরাসরি গুলি করা ঠিক হবে কি না। ৩ আগস্ট রাত থেকে অনেক ব্যাচের গ্রুপে বলা হতে থাকে, গুলি করা ঠিক হবে না।

ওই দরবারের পর থেকেই শেখ হাসিনার পায়ের নিচের মাটি আলগা হতে শুরু করে।

আরও পড়ুন : ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক বৈঠকে কী ঘটেছিল

৪ আগস্ট: অস্ত্র হাতে ক্যাডার, ওদিকে পদত্যাগের ছক

আন্দোলন দমাতে না পেরে আওয়ামী লীগ দলীয় ক্যাডারদের অস্ত্র হাতে নামানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ৪ আগস্ট ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অস্ত্রধারীরা মাঠে নামে, ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়।

ঠিক সেই দিনই দুপুরের পর একটি প্রভাবশালী পশ্চিমা দেশের কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করেন তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আলোচনার বিষয় ছিল শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সম্ভাবনা। বৈঠকে মত আসে, এমনটা হলে দেশ সংকট থেকে বেরিয়ে আসবে।

বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফর্সাকারী ক্রিমের প্যাকেজিং দেখানো হয়েছে।. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ এরপর আনিসুল হকের গুলশানের বাসায় বসেন প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। তাঁদের ভাবনাটা ছিল ধাপে ধাপে সাজানো: শেখ হাসিনা পদত্যাগ করবেন, দায়িত্ব নেবেন তৎকালীন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, তিনি সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় সরকার গঠন করবেন, তারপর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর।

মাগরিবের নামাজের পর তাঁরা গণভবনের দিকে রওনা হন। যাওয়ার আগেই ফোনে শেখ হাসিনাকে কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠকের কথা জানিয়ে রাখেন আনিসুল হক। বাকিটা সামনাসামনি বলার ইচ্ছা জানান।

গণভবনে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, শেখ হাসিনা দোতলায়। সেখানে সবার প্রবেশাধিকার নেই। তাঁর সঙ্গে আছেন শেখ রেহানা ও শিরীন শারমিন চৌধুরী। নিচে অপেক্ষায় তৎকালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নাহিদ ইজহার খান, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাতসহ কয়েকজন। পরে ধানমন্ডি কার্যালয় থেকে আসেন জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিপ্লব বড়ুয়াসহ অনেকে।

রাত আটটার দিকে শেখ হাসিনা নিচতলায় নেমে আসেন। নেতাদের বলেন, ৫ আগস্ট থেকে ‘লকডাউন’ থাকবে, কেউ ঘর থেকে বের হতে পারবে না। আগের দিন যেসব ক্যাডার অস্ত্র হাতে রাজপথে নেমেছিল, তাদেরও আর নামার দরকার নেই।

রাতের বৈঠক, আর একটি বাক্য

এর মধ্যেই তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে ফোন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাহিনীপ্রধানদের গণভবনে ডাকার নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। রাত ১০টার দিকে বসে দ্বিতীয় বৈঠক।

কারাবন্দী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, ওই বৈঠকে ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, শেখ রেহানা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তিন বাহিনীর প্রধান, র‍্যাবের মহাপরিচালক ও তিনি নিজে। ছিলেন শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুজিবুর রহমানও।

আলোচনার বিষয় ছিল একটাই, পরদিনের গণজমায়েত কীভাবে ঠেকানো যায়। বৈঠক শেষে তাঁরা চলে যান সেনাবাহিনীর অপারেশন কন্ট্রোল রুমে। সেখানে যোগ দেন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আরও কয়েকজন। রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলে ফোর্স মোতায়েনের হিসাব। সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকা শহর ও ঢাকার প্রবেশমুখে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।

সরকারের অবস্থা নিয়ে ওই আইজিপির নিজের ভাষ্যটাই বেশি স্পষ্ট। তিনি বলেছেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি সরকারকে সঠিক তথ্য দিতে। সরকার তার দুর্বলতা শুনতে প্রস্তুত ছিল না।’

উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র বলছে, ওই রাতেই গণভবনে সেনাবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শেখ হাসিনাকে সরাসরি বলে দেন, এসব আলোচনা কাজে লাগবে না, সময় ফুরিয়ে গেছে।

রাতের একপর্যায়ে সেনাপ্রধান আলাদা করে কথা বলেন শেখ হাসিনার সঙ্গে। পাশে ছিলেন শেখ রেহানা। সেনাপ্রধানের কথা ছিল অনেকটা এমন, ‘স্যার, আপনার হাতে আর সময় নেই।’ তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসে সমাধান খোঁজার পরামর্শও দেন।

রাত আড়াইটায় আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমান পশ্চিমা ওই দেশের কূটনীতিককে জানিয়ে দেন, শেখ হাসিনা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরদিনই পদত্যাগ করবেন।

৫ আগস্ট: হাতে নিজের লেখা পদত্যাগপত্র

ভোরেই সেনাপ্রধান ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল হামিদুল হককে বলেন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে, যাতে সকালে সেনা সদরে নেতারা বসতে পারেন।

সকাল থেকেই উত্তরা, যাত্রাবাড়ী ও সাভার থেকে ঢাকার দিকে নামে ছাত্র-জনতার ঢল। সব মিছিলের লক্ষ্য একটাই, গণভবন।

ঢাকা শহরে বিশাল জনসমাগম, পুলিশি টিয়ার গ্যাস ছোড়া. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ আওয়ামী লীগের নেতারাও খোঁজ নিয়ে বার্তা পেয়েছিলেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই আছে (৫ আাগস্টের পরে অনেকে গণমাধ্যমে বলেছিলেন)। কিন্তু বেলা বাড়তেই সব পাল্টে যায়। প্রথমে গাজীপুর, পরে সাভারের নেতারা ফোন করে জানান, ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ ঢাকায় ঢুকে পড়ছে।

সকাল ১০টায় সেনাপ্রধানকে আবার ডাকেন শেখ হাসিনা। সূত্র বলছে, সেনাপ্রধান গিয়ে দেখেন তিনি বিমর্ষ। হাতে নিজের লেখা পদত্যাগপত্র। সিদ্ধান্তটা জেনে সেনাপ্রধান সেনা সদরে ফিরে যান। সরকার পতনের পর দেশে বড় ধরনের অরাজকতার আশঙ্কা ছিল, তাই তিনি রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে বসার উদ্যোগ নেন। সব নেতাকে নিয়ে সেই বৈঠক শুরু হয় দুপুরের পর।

পদত্যাগের সিদ্ধান্ত পর্যন্ত পৌঁছানোটাও সহজ ছিল না। ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম গত বছরের ২৫ মে শুনানিতে বলেন, সেনা নেতৃত্ব একপর্যায়ে শেখ রেহানাকে দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করে। তাতেও শেখ হাসিনা রাজি হচ্ছিলেন না। পরে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা ফোনে কথা বলেন ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে। তাঁরা জয়কে বলেন, প্রাণে বাঁচাতে হলে মায়ের পদত্যাগ ছাড়া উপায় নেই, সিদ্ধান্ত এখনই নিতে হবে। এরপর জয় মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর কথাতেই ক্ষমতা ছাড়ার সিদ্ধান্ত হয়।

বেলা ২টা ২৫ থেকে বিকেল ৫টা ৩৬

হেলিকপ্টারটি নামে বিমানবাহিনীর কুর্মিটোলা ঘাঁটিতে। সেখানে লাউঞ্জে এক ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করেন শেখ হাসিনা। এর মধ্যে প্রস্তুত করা হয় পরিবহন বিমান। হেলিকপ্টার থেকে নেমে লাউঞ্জে যাওয়ার মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

বাহিনী ও গাড়ির সঙ্গে নিরাপত্তা কর্মীরা গণভবনের বাইরে অবস্থান করছে।. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ বেলা তিনটার পর সি-১৩০ বিমানটি আকাশে ওড়ে। সঙ্গে ছিলেন শেখ রেহানা ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারেক সিদ্দিক। সামরিক সচিবও গিয়েছিলেন, তবে তিনি ওই বিমানেই ফিরে আসেন।

তখন সেনাপ্রধান সেনানিবাসে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে বৈঠকে। সেখানেই ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক তাঁকে জানান, শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ছেন, বিমান রানওয়েতে। সেনাপ্রধান সঙ্গে সঙ্গে ফোন করেন, কিন্তু কথা শোনা যায়নি। বিমান ততক্ষণে ভারতের পথে।

জনতার ঢল নামে গণভবন অভিমুখে। সেখান থেকে সরে যায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সকল বাহিনী।

স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৬ মিনিটে বিমানটি নামে নয়াদিল্লির কাছে গাজিয়াবাদে ভারতীয় বিমানবাহিনীর হিন্দন ঘাঁটিতে। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল সেখানে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান বলে দেশটির গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

পরদিন রাজ্যসভায় দেওয়া বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, শেখ হাসিনা খুব অল্প সময়ের নোটিশে সাময়িকভাবে ভারতে আসার অনুমতি চেয়েছিলেন। বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিমানের ছাড়পত্রের অনুরোধও ভারত পেয়েছিল।

গণভবন ফাঁকা, নেতারা দিগ্‌বিদিক

দেশ ছাড়ার ঠিক আগে শেখ রেহানা ফোনে সালমান এফ রহমানসহ কয়েকজনকে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে বলেন। দলের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া তখন একের পর এক নেতাকে ফোন করে সরে যেতে বলছিলেন। সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবনে থাকা সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সেই ফোন পেয়ে তড়িঘড়ি করে কাছাকাছি এক প্রকৌশলীর বাসায় আশ্রয় নেন।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ছিলেন সংসদ ভবনের অফিসেই। ছাত্র-জনতা ঢুকে পড়লে তিনি, প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মদ পলক ও হুইপ ইকবালুর রহিম একটি কক্ষে আত্মগোপন করেন। গভীর রাতে সেনা হেফাজতে তাঁরা বের হন।

বাকিদের অবস্থাও প্রায় একই। মন্ত্রিসভার বেশির ভাগ সদস্য হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। একজন প্রতিমন্ত্রী সারা রাত জেগে থেকে দুপুর পর্যন্ত নিজের বাসায় ঘুমাচ্ছিলেন, ঘনিষ্ঠজনেরা ফোন করে তাগাদা দেওয়ার পর বাসা ছাড়েন। একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর গাড়ি মৎস্য ভবন এলাকায় ছাত্র-জনতার মুখোমুখি হওয়ার উপক্রম হয়। একজন সংসদ সদস্য মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর ন্যাম ভবন থেকে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে মাস্ক পরে জনস্রোতের ভেতর দিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যান।

সেদিন বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, তাঁর মা আর রাজনীতিতে ফিরবেন না। আগের দিন থেকেই তিনি পদত্যাগের কথা ভাবছিলেন এবং পরিবারের জোরালো অনুরোধে নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে দেশ ছেড়েছেন।

আওয়ামী লীগের নেতারাই মনে করেন, দেশ না ছাড়লে ক্ষুব্ধ জনতার হাতে তিনি মারা পড়তেন। সেনানিবাসে থাকাও তিনি নিরাপদ মনে করেননি।

অবশেষে

৫ আগস্ট এক দিনের গণবিক্ষোভের ফল ছিল না। এর পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা, বিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগহীনতা, রাষ্ট্রীয় শক্তির ওপর অতিনির্ভরতা।

গণভবনে থাকা নেতাদের ভাষ্য, শেখ হাসিনা সংকটটা বুঝতে পারছিলেন, কিন্তু ক্ষমতা ছাড়তে আগ্রহী ছিলেন না। তাই তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ এসেছে দেরিতে, যখন আর সেগুলোর কোনো কার্যকারিতা ছিল না। কখনো আন্দোলন দমনের পরিকল্পনা, কখনো জরুরি অবস্থার চিন্তা, আবার কখনো পদত্যাগের আলোচনা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কোনো পথেই স্থির থাকা হয়নি।

সেনাবাহিনী জনগণের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগে অনাগ্রহী হওয়ার পর সরকারের সামনে আর কোনো কার্যকর বিকল্প ছিল না। তবু সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও হাতছাড়া হয়ে যায়। শেষে আকস্মিক প্রস্থানের খবর আগে থেকে না জানায় মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও দলের নেতাদের বড় অংশ দিশাহারা হয়ে পড়েন। কেউ আত্মগোপনে যান, কেউ ছোটেন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে।

(দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে সংকলন)

Tags: ৫ আগস্টক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাগণভবনজুলাই গণঅভ্যুত্থানজুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসসেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান
Previous Post

৮ ব্র্যান্ডের ফর্সাকারী ক্রিমে বিপজ্জনক মাত্রায় মার্কারি, ব্যবহার না করার পরামর্শ

Next Post

রাজধানীতে একাধিক কর্মসূচি, বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ ডিএমপির

Next Post
ঢাকা মহানগর পুলিশ এর অফিসিয়াল লোগো, সুরক্ষা ও শৃঙ্খলা. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

রাজধানীতে একাধিক কর্মসূচি, বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ ডিএমপির

তিনটি স্মুদি গ্লাস ফলের সাথে সাজানো, তাজা ফলের সাথে পরিবেশিত. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

এই গরমে খান ৩ স্মুদি, মিলবে প্রশান্তি ও পুষ্টি

সর্বশেষ

জেমসের নতুন গানের পরিবেশনা, মঞ্চে গিটার ও মাইক্রোফোন হাতে শিল্পী. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

ঘর ছেড়ে আজিজ বোর্ডিং, সংগীতে আজও অপ্রতিরোধ্য জেমস

অক্টোবর 2, 2026

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ কবে, কার বিপক্ষে, কোথায়

অক্টোবর 2, 2026
প্রাকৃতিক পরিবেশে মিথিলা সুন্দরভাবে ছবি তুলেছেন. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

মিথিলার ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন

অক্টোবর 2, 2026

দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কাজ চলছে: মাহদী আমিন

অক্টোবর 1, 2026

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরু কবে, জানাল আইসিসি

অক্টোবর 1, 2026
iscreenads
চ্যানেল আই অনলাইন লোগো, বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংবাদ পোর্টাল. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
info@channelionline.com
online@channeli.tv (Online)
news@channeli.tv (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT