মন্ত্রিসভা বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে ‘স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ ব্যবস্থাপনা নীতি- ২০১৭’। জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নীতিটি চূড়ান্ত করতে তামাকবিরোধী সংশ্লিষ্টরা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে এসেছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্য বিবেচনায় সকল তামাকপণ্যের উপর ১ শতাংশ হারে স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আরোপ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ৩০-৩১ জানুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত দক্ষিণ-এশীয় স্পিকার সম্মেলনে সারচার্জের অর্থে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি গ্রহণের ঘোষণা দেন। তবে সারচার্জ ব্যবস্থাপনা নীতি না থাকায় ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত এ খাতে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা আদায় হলেও এই অর্থ ব্যবহার করা যায়নি।
সারচার্জ থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যয়ের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২০১৫ সালে ‘স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ ব্যবস্থাপনা নীতি’ এর খসড়া প্রণয়নের কাজ শুরু হয়। খসড়াটির ওপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় প্রদত্ত মতামত সন্নিবেশিত করে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশের মাধ্যমে এই খসড়া নীতির ওপর সর্বসাধারণের মতামত গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে এটি আন্ত:মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে অনুমোদন পায়। সর্বশেষ, আজ ১৬ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে খসড়া নীতিটি মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হলে তা চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে।
স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ ব্যবস্থাপনা নীতিতে এ তহবিলের অর্থ ব্যবহার করে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি পরিচালনাসহ জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল- এনটিসিসি এর কার্যক্রম পরিচালনা, গণমাধ্যমে প্রচারণা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর অধীনে Tobacco Tax Cell (TTC)এর কার্যক্রম পরিচালনা, গবেষণা, কুইট লাইন স্থাপন, তামাকজনিত অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান, তামাকচাষীদের বিকল্প ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করা ও স্টেকহোল্ডারদের দক্ষতা উন্নয়নে ব্যয় করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১১টি দেশে তামাকপণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক হিসেবে স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আদায় করা হয় এবং আদায় করা অর্থ তামাক নিয়ন্ত্রণসহ নানাবিধ কাজে ব্যয় করা হয়। এসব দেশগুলোর মধ্যে ভারত, থাইল্যান্ড, নেপাল, ভিয়েতনাম, কাতার, মঙ্গোলিয়া, লাওস, আইসল্যান্ড ও এস্তনিয়া অন্যতম।









