অগ্নিদগ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে ভর্তি হওয়া সোনাজয়ী শুটার সৈয়দা সাদিয়া সুলতানার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তাকে হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট (এইচডিই) থেকে কেবিনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাদিয়ার বড় ভাই সৈয়দ সাজ্জাদ উল্লাহ।
বার্ন ইউনিটের প্রকল্প পরিচালক ডা. আবুল কালামের বরাত দিয়ে সাজ্জাদ উল্লাহ চ্যানেল আই অনলাইকে জানান, ‘শঙ্কা কমে আসায় এইচডিই থেকে কেবিনে নেওয়ার কথা বলেছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু এ মুহূর্তে কোনও কেবিন খালি নেই। আমরা অপেক্ষা করছি।’
কমনওয়েলথ শুটিংয়ে সোনাজয়ী সাদিয়ার আগুনে পুড়ে গেছে বুক, গলা ও মুখের একাংশ। পুড়ে যাওয়া চামড়া শরীর থেকে আলাদা করতে সার্জারি করবেন চিকিৎসকরা। বুধবার তার সার্জারি হওয়ার কথা থাকলেও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। শনিবার হতে পারে সার্জারি।
কেন বিলম্ব হচ্ছে জানতে চাইলে সাদিয়ার ভাই বলেন, ‘এখন সার্জারি করলে রোগী সুস্থ হবে, কিন্তু আগের অবস্থায় ফিরে আসবে না। আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে চাইছি এমনভাবে চিকিৎসা হোক যাতে সুস্থ অবস্থায় যেমন ছিল, অনেকটা তেমন হয়ে ফিরে আসে। এজন্য চিকিৎসা ব্যয় বহন করার কথা বলার পর চিকিৎসকরা সেভাবেই এগোতে চাইছেন। পুড়ে-গলে যাওয়া চামড়া সরালে ক্ষত তৈরি হবে। তবে আমরা চাইছি সে অংশের জন্য শরীরের অন্য কোনও জায়গা থেকে চামড়া নিয়ে ভরাট করতে। তাহলে আগের মতো হয়ে যাবে।’
‘আমরা ডাক্তারদের বলে রেখেছিলাম যদি আপনারা সার্জারি করেন তাহলে খুব ভালভাবে করেন, যাতে সাদিয়াকে আমরা ভাল একটা অবস্থায় দেখতে পাই। যতটুকু পারেন নতুন চামড়া দিয়ে ভরাট করে দিন। এজন্য এখন ওনারা সময় নিচ্ছেন। প্রথমে তারা ভেবেছিলেন আমরা হয়ত মোটা অঙ্কের অর্থ খরচ করতে সমর্থ হবো না।’
গত ১৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে নিজ বাসায় খাবার গরম করতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হন সাদিয়া। তখনই স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।২১ অক্টোবর তাকে নিয়ে আসা হয় ঢাকায়। গত সোমবারই সার্জারি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সাদিয়া জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় সার্জারি করতে সময় নেন চিকিৎসকরা। পরে সাদিয়ার পরিবার থেকে সার্জারির পাশাপাশি শরীরের ক্ষত চামড়া দিয়ে ভরাট করে দেওয়ার অনুরোধ করায় সময় নিচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।









