রমজান মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন।
রোববার রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিয়া রহমান।
প্রবন্ধে বলা হয়, পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সেল গঠন করে অসাধু ব্যবসায়ীদের নজরদারির আওতায় আনতে হবে। চুরি, ছিনতাই ডাকাতি রোধ ও যানজট নিরসনে পুলিশের বিভিন্ন স্তরের বিশেষ টহল এবং মনিটরিং টিম নিশ্চত করতে হবে। অপরাধীদের তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
সভায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা রাস্তায় চাঁদাবাজি, যানজট, মালামাল আমদানিতে ভোগান্তি, ভেজাল পণ্য, সিন্ডিকেটসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গাড়ির ফিটনেস, সার্টিফিকেট, লাইসেন্স না থাকলে, চালকরা উল্টাপাল্টা গাড়ি চালালে, ট্রাফিক পুলিশ বা সার্জেন্টরা গাড়ি থামায়। এতে যানজটের সৃষ্টি হয়। এটা অস্বীকার করার মত নয়।
‘রাস্তায় চাঁদাবাজি রোধে হাইওয়ে পুলিশ, শিল্প পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হবে। চাঁদাবাজি রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে দুই-একজন চাঁদাবাজ পুলিশ যে নেই তা অস্বীকার করবো না। পুলিশও আইনের ঊর্ধ্বে নয়, তবে কাউকেই ছাড় দেই না।’
খাদ্যপণ্যে ভেজালের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ভেজাল ব্যবসায়ীরাই করেন। এমন কিছু জায়গায় ভেজাল করা হয়, যা সহনীয় হয় না। নাম বলবো না, এমন একটা হাসপাতালের তথ্য পেয়েছি যেখানে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ দিচ্ছেন রোগীদের। কেন করছেন এটা আপনাদের কাছ আমার জিজ্ঞাসা।
‘হয়তো বলবেন, যারা ভেজাল করে তাদের ধরতে পারেন না? হ্যাঁ পারি। ধরার পরে তদবির আসে সেটাও আরেক মুসকিল হয়ে যায়।’
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে রোহিঙ্গা এসেছে কয়েক লাখ। আর গতকাল ৫ সদস্যের এক রোহিঙ্গা পরিবার ফিরিয়ে নিয়েছে মায়ানমার। যা হাস্যকর।
কোটা বিরোধী আন্দোলনের সময় শাহবাগে অরাজকতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি’র বাসায় হামলার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তদন্ত করে সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর সভাপতি গোলাম রহমানসহ ডিসিসিআই’র পরিচালকরা।









