মনজুরুল আলম: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় একটি বিদ্যালয়ে নলকূপ বসাতে গিয়ে নলকূপের গর্ত থেকে অবিরাম গ্যাস বের হচ্ছে। এতে নিরাপত্তার কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।
পাশাপাশি কূপের গর্তের আকৃতি বেড়ে গিয়ে হুমকির মুখে পড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিও।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সবাইকে সর্তক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বাপেক্সের কর্মকর্তারা।
গত ১ ফেব্রুয়ারি বায়েক ইউনিয়নের শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে নলকূপ বসানোর কাজ শুরু করে কর্তৃপক্ষ। ৫ ফেব্রুয়ারি প্রায় সাড়ে ৫শ’ ফুট খনন করার পর হঠাৎ করে বিকট শব্দে সেখান থেকে গ্যাস উঠতে থাকে। এরপর থেকে গ্যাসের সাথে অনবরত পানি ও বালি উঠতে থাকে এবং প্রচণ্ড ঘূর্ণিপাক সৃষ্টি হয়ে সেখানে ৮০/৯০ ফুট ওপরে পানি ও গ্যাস উঠতে শুরু করে।
পানি ও গ্যাসের প্রচণ্ড চাপে বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ও আশপাশের গাছপালা কূপের গর্তে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও হুমকির মুখে রয়েছে বিদ্যালয়ের মূলভবন।
নিরাপত্তার কারণে আশপাশের এলাকায় কেউ যাতে চুলায় আগুন না ধরায় সে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আশপাশের এলাকায় আগুন দিয়ে রান্না না করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ে স্থানীয়রা শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার কারণে শিক্ষার্থীরাও পড়েছে দুশ্চিন্তায়।
উৎসুক জনতার ভিড় সামলাতে পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। মাটির নিচ থেকে নির্গত বালি স্কুল মাঠসহ পার্শ্ববর্তী জমিতে এবং বাড়িঘরে ছড়িয়ে পড়ছে।
উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে জানান কসবা উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রাশেদুল কাউসার ভূইয়া জীবন।
বাপেক্সের ভূতত্ত্ব বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন জানান, গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে, এর ধরন বুঝে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সবাইকে সর্তক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
দ্রুত বিষয়টির সমাধানে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।









