‘আমরা টাকা ফেরত পেলাম, হস্তান্তর রিসিপ্টে সাইনও করলাম, তারপরে আবার সেটা ভল্টে (ফিলিপিন্স সেন্ট্রাল ব্যাংকের ভল্টে) জমা হয়ে গেলো। তাহলে আমাদের টাকা কোথায়?’, চুরি যাওয়া বাংলাদেশী রিজার্ভের বিষয়ে ফিলিপিন্সের সিনেটে শুনানি শেষে নিজের হতাশার কথা প্রকাশ করে এমনটা বলেন ফিলিপাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত জন গোমস।
বাংলাদেশী রিজার্ভের চুরি যাওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলারের একটি খুবই ক্ষুদ্র অংশ সংশোধন করা এবং ফেরত পাওয়ার পর আবার সেটা ফিলিপিন্সের সেন্ট্রাল ব্যাংকের দখলে থাকায় হতাশ জন গোমস।
উংয়ের ফেরত দেওয়া টাকা নিয়েই তার এই হতাশা। অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলের কাছে গোমস জানতে চান, যদি খুব শীঘ্রই ওই টাকা বাংলাদেশ ব্যাংককে ফেরত দেওয়া হবে কিনা, কারণ বাংলাদেশ ব্যাংককে তার অগ্রগতি জানাতে হবে।
কিন্তু ফিলিপিন্সের অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর বাকে অ্যাবাদ বলেন, অপেক্ষা করতে হবে। টাকা হস্তান্তরের আগে নাগরিক বাজেয়াপ্তকরণ কেস ফাইল করতে হবে।
এরপর গোমস বলেন, তাহলে আমাদের করণীয় কি? আপনারাই আমাকে আসতে বলেছেন। বলেছেন, আমাকে টাকা গ্রহণ করতে এবং সাক্ষর করতে ডেকেছিলেন। বিগত অনেকদিন ধরেই এই টাকা আমরা গুণছি। কেন গুণছি? কোনো কারণেই না? বাংলাদেশের সংবাদপত্রও এই টাকা গুণছে।
অ্যাবাদ পরিস্কার করেন পুরো বিষয়টা, রাষ্ট্রদূত মনে করেছিলেন বুধবার টাকাটা হস্তান্তর করা হবে। পরে তিনি সেটা বাংলাদেশ সরকারকে ফেরত পাঠাবেন।
কিন্তু উংয়ের আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনার পর জানা যায়, টাকাটা শুধু নিরাপত্তার স্বার্থে এএমএলসির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আমরা আগে মনে করেছিলাম যে বাংলাদেশকেই টাকাটা ফেরত দেয়া হবে।
আমরা বলতে চাই, টাকাটা সরাসরি তাদের হস্তান্তর করার ব্যাপারে উংয়ের পক্ষ থেকে কিছুই বলা হয়নি। তাই এই বিষয়ে আমরা কিছুই জানিনা। আবার বাংলাদেশ সরকার এটা গ্রহণ করে ফেলেছে, কেননা তিনি স্বীকৃতির রিসিপ্টে সাক্ষর করেছেন বলে জানান অ্যাবাদ।
টাকাটা বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে উংয়ের লিখিত সম্মতি লাগবে বলেও জানান অ্যাবাদ। তা না হলে পরের সপ্তাহে সেই নাগরিক বাজেয়াপ্তকরণ কেস ফাইল করা হবে।
জুয়ার এজেন্ট কিম উংয়ের ৪.৬৩ মিলিয়ন ডলার এবং ৩৮.২৮ মিলিয়ন পেসো ফেরত দেওয়ার ঘটনা নিয়েই এই হতাশা জন গোমসের। তিনি বলেন, ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরির পর টাকা এখানে আসাটাও এখনো রহস্যাবৃত, এমনকি এই ঘটনার প্রধান সব সাক্ষী এবং তথ্য বহুল মানুষগুলো সবসময় নিজেদের পাষাণের মতো করে আইনের পেছনে লুকিয়েছেন।
আরসিবিসির ম্যানেজার মায়া সান্তোস ৫ এপ্রিল চতুর্থবারের শুনানিতে বলেন, চুরি যাওয়া অর্থ থেকে এক সেন্টও তিনি নেননি। আবার এই ঘটনার পেছনেও যে তিনি আছেন সেটাও স্বীকার করেননি। বরং তিনি দায় চাপান আরেক আরসিবিসি কর্মকর্তা লরেঞ্জো ট্যানের উপর। কেননা তিনিই তাকে জুয়ার এজেন্ট কিম উংসহ অন্যদের খেয়াল রাখতে বলেছিলেন।
এভাবেই টাকা চুরির ঘটনায় সবাই একে অন্যের উপর দায় চাপাতে ব্যস্ত। এসব দেখেই সিনেট শুনানি শেষে নিজের হতাশার কথা জানান জন গোমস। সিনেটর তিওফিস্তো গুইনগোনার কাছে নিজের মনের কথা বলেন তিনি।
বুধবার ব্লু রিবন চেয়্যারম্যানের সঙ্গে অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলের প্রতিনিধিদের আলোচনায় বসার কথা।









