১২ আগষ্ট থেকে পদ্মা নদীতে পানি বেড়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও পাকশির হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি বেড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, আগষ্ট-সেপ্টেম্বর মাসে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি স্বাভাবিক ঘটনা। সবসময়ই বর্ষা মৌসুমে ফারাক্কা বাঁধের সব গেইট খোলা থাকে বলেও জানিয়েছেন তারা। এর ফলে প্রায় ১১ লাখ কিউসেক পানি ঢুকবে বাংলাদেশে।
মধ্য জুলাই থেকে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু জেলায় এবং পরে দেশের মধ্যাঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়। চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ওইসব অঞ্চলসহ দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে।
এর মধ্যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভারতের বিহার অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতিতে ফারাক্কা বাধের এক’শ চারটি গেইটই খুলে দেয়া হয়েছে।
ফারাক্কার ১০৪টি গেইট খুলে দেয়ায় প্রায় এগারো লাখ কিউসেক পানি বাংলাদেশে প্রবাহিত হওয়ার কথা। এতে দেশের সদ্য বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠা উপদ্রুত অঞ্চল ও মানুষেরা আবারো বিরূপ পরিস্থিতির শিকার হবেন কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, পদ্মায় তিনটি পয়েন্টে পানি বাড়লেও হার্ডিঞ্জ ব্রিজে পানি বিপদ সীমার ৪৫ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে বইছে। ব্রক্ষ্মপুত্রের বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বইছে বিপদসীমার দুই মিটারেরও বেশি নীচ দিয়ে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, পদ্মা নদীতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে ১৯৮৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রেকর্ড সর্বোচ্চ প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ছিয়াত্তর হাজার ঘনমিটার পানি প্রবাহিত হয়। চলতি সপ্তাহের পর্যবেক্ষণে, প্রতি সেকেন্ডে প্রায় আটচল্লিশ হাজার ঘনমিটারের কিছু বেশি পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, ১৯৯৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ব্রক্ষ্মপূত্রের বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় এক লাখ তিন হাজার ঘন মিটার পানি প্রবাহিত হয়। বর্তমানে ওই পয়েন্টে প্রতি সেকেন্ডে প্রবাহিত হচ্ছে প্রায় চল্লিশ হাজার ঘন মিটার পানি ।









