কৃষিজমি অধিগ্রহণ করে স্থাপনা নির্মাণে খোদ প্রধানমন্ত্রীর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও খুলনার ফুলতলা উপজেলার প্রায় ৩৩ বিঘা কৃষিজমি উপর সাইট এন্ড সার্ভিসেস আবাসিক প্লট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে গৃহায়ণ বিভাগ। এতে ওই কৃষি জমির উপর নিভর্রশীল কৃষক পড়েছেন জীবিকা হারানোর শঙ্কায়। ওই এলাকার খাদ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
গৃহায়ণ বিভাগের ৩৩ বিঘা জমি অধিগ্রহণের এই উদ্যোগের কারণে তিন শ’রও বেশি কৃষক হারাতে বসেছে তাদের জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। এদের কেউ পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া আবার কেউ বর্গা নিয়ে এই জমিতে আবাদ করে আসছে প্রায় ৫০-৬০ বছর যাবৎ।
বছরে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের ফসল উৎপাদনের এই কৃষি জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত কৃষকদের ফেলেছে অকুল পাথারে।
একজন কৃষক বলেন, ৩৩ বিঘা জমি যেখানে প্রচুর ফসল হয়। এলাকার প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ এর উপর নির্ভরশীল। আরেকজন বলেন, এই জমি যদি অধিগ্রহণ করেই ফেলে তাহলে আমার আর কিছু করে খাওয়ার থাকবে না।
কৃষকজমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রেরিত নোটিশের বিরূদ্ধে আপত্তি জানিয়ে স্থানীয় কৃষক বারবার আবেদন জানালেও এখনো পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি। তারা বলছেন, এ নিয়ে কৃষকদের ওপর হুমকি, চাপ ও বিশেষ প্রলোভন অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও পড়েছেন দ্বিধাদ্বন্দ্বে।
ফুলতলা উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ আকরাম হোসেন বলেন, প্রথমে অধিগ্রহণকারীরা থেমে গিয়েছিলো। কিন্তু পরে জমির অর্ধেক মালিকরা উচ্চমূল্যে জমি অধিগ্রহণে রাজি হয়ে যায়।
প্রশাসনের অনুমতিসাপেক্ষে উক্ত জায়গাটি অধিগ্রহনের প্রস্তাব ছিল বলে জানান গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী মঈনুল হক বলেন, জনগণের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতেই ওই জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কৃষি জমিতে স্থাপনা নির্মাণ খাদ্য নিরাপত্তার ওপর এক ধরণের হুমকি।






