দেশে বিভিন্ন সরকারের সময় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে, বিশেষ করে ভারত-চীন ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি হলে ‘দেশ বিক্রি হয়ে গেলো’ এই অভিযোগের রাজনীতি চলছে অনেক বছর। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় কিছু সমঝোতা স্মারক ও চুক্তির পর তা নিয়ে একইরকম অভিযোগ আর প্রচারণা চলেছে। গণমাধ্যমে বিবৃতি দেয়াসহ সভা-সেমিনারে তারা লাগাতার দেশ বিক্রির অভিযোগ করে আসছেন। এর আগে সংবাদ সম্মেলনে কথা বললেও ওই সফরের পর সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম প্রশ্নোত্তর পর্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সফরের বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। জাতীয় সংসদের স্পিকারকে ভারত সফরে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করে তা পড়ে দেখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। সংসদে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন: ভারতের সঙ্গে ২৪টি সমঝোতা এবং ১১টি চুক্তির মধ্যে অন্যতম সমঝোতা প্রতিরক্ষা স্মারক। এই স্মারক শুধু ভারতের সঙ্গেই নয় চীন, কুয়েত, রাশিয়ার সাথেও রয়েছে। চীনের সঙ্গে যে সামরিক সমঝোতা হয়েছিল সেই তথ্য গোপন করেছিল বিএনপি সরকার। অথচ তারাই এখন দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তির কথা তুলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। আমরা সব জানিয়েছি, আরো বেশি কেউ জানতে চাইলে বিস্তারিত জানাবো। তার এই বক্তব্য ও সংসদে এরকম তথ্য উপস্থাপনের যে ধারা তৈরি হলো, তা যুগান্তকারী বলে আমরা মনে করি। একটি দেশের সংসদ হচ্ছে সেদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার আয়নাস্বরুপ। তথ্যের গুরুত্ব বুঝে ও যথাযথ গোপনীয়তা বজায় রেখে সংসদে জনগণের উদ্দেশে বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করে অমূলক ও উদ্দেশ্যমূলক প্রচার-প্রপাগান্ডা সামাল দেয়া সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদের মাধ্যমে তথ্য উপস্থাপন ও প্রকাশের যে ধারা চালু করলেন তা অব্যাহত থাকবে বলে আমাদের আশাবাদ।









