রোহিঙ্গা শিশু ইয়াসমিনার বয়স মাত্র ১৫ বছর। বার্মিজ সেনারা যার পরিবারকে গুলি করে হত্যা করেছে। সে কোনোরকমে প্রাণে বেঁচে গেছে। অগাস্টেই পরিবারের আরো কিছু সদস্যদের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ইয়াসমিনা। কোনোরকমে একটি নদী সাঁতরে পাশের গ্রামে চলে যেতে সমর্থ হয় সে।
কিন্তু তারপরও সে নিরাপদ ছিলো না। সেনারা সেখানেও তাকে ধরে ফেলে, একটি হাটে নিয়ে যায় এবং রোহিঙ্গা নৃগোষ্ঠীর অন্যান্য নারীদের সঙ্গে তাকে গণধর্ষণ করে।
ইয়াসমিনা বলেন, তারা সবাইকেই একের পর এক ধর্ষণ করছিলো, ভিন্ন ভিন্ন মানুষ কিন্তু একই ইউনিফর্ম পড়া। আমি যখন উঠে দাড়ালাম তখন প্রচণ্ড ব্যথা। ভাবছিলাম, কী করতে পারি। যদি এখানে থাকি তাহলে আমি মারা যাবো। তাই আমরা আবার পালিয়ে গেলাম, নয়জন একসঙ্গে।
অক্টোবরে বাংলাদেশে ৫২ রোহিঙ্গা নারীর সঙ্গে কথা বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। তাদের মধ্যে প্রায় ২৮ জনই ইউনিফর্মধারী মানুষগুলোর হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এসময় তারা আঘাত, লাথি ও কামড়ের শিকারও হয়েছে। সাহায্যকর্মীরা জানিয়েছেন, তারা শত শত আক্রান্ত নারীকে চিকিৎসা দিয়েছেন। তবে যৌন সহিংসতা নিয়ে চলমান সেই সব প্রচলিত ধারণার প্রেক্ষিতে কোনো কোনো নারী নিজেদের প্রতি সহিংসতার কথা কাউকেই বলেনি। এমনকি চিকিৎসা নিতেও আসেননি।
গণধর্ষণের শিকার হযে কোনো কোনো নারীর ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলো, সেই অবস্থাতেই কোনো কোনো নারীকে নিরাপদ স্থানের খোঁজে পাড়ি দিতে হয়েছে অনেকটা পথ। ফলে তাদের অনেকের যোনিপথে ইনফেকশনের পরিমাণ আরো বেড়েছে।
ধর্ষণ সবসময় দীর্ঘসময়ের জন্য ভয় ও উদ্বিগ্নতার জন্ম দেয়। বেঁচে ফেরা নারীরা জানায়, তারা ঘুমাতে পারে না, তাদের ক্ষুধা নেই, অন্য মানুষের জন্য কোনো আগ্রহ নেই, সবসময় ভীত ও উদ্বিগ্ন এবং হতাশায় ভোগে।
নর্দার্ন রাখাইন রাজ্যে বার্মিজ সেনাবাহিনীর এমন রোমহর্ষক সহিংসতার কথা শুনে শুধু জাপান নয় বরং সারাবিশ্বের অনেকেই হতবাক হয়েছেন। এই ধরনের ঘটনায় নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন জাপান সরকার। এসব অন্যায় রোধে বার্মার সেনাবাহিনীর উপর আরো বেশি চাপ আনার কথাও বলেছে দেশটি। তবে আসলেই কি দেশটি ধর্ষণের শিকার নারীদের পাশে দাঁড়াবে?
ডিসেম্বরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্সি করছে জাপান। ফলে অনেক কিছুই করতে পারে জাপান। তাই অনেকের চাওয়া জাপান তাদের কষ্টগুলো বুঝতে চেষ্টা করবে। অনেকের মতে, দেশটি সংঘর্ষের সময়ে যৌন সহিংসতার বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানাতে পারেন রোহিঙ্গাদের প্রতি যৌন সহিংসতার বিষয়ে তার সাম্প্রতিক তদন্ত ব্রিফ করতে।
জাপান নিরাপত্তা পরিষদ বার্মায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও বার্মার সেনাবাহিনীর সম্পদ সিজ করতে পারে মানবাধিকার নষ্ট করার অভিযোগে, বার্মার উপরে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে, আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল কোর্টে বার্মার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরতে পারে।
এই ডিসেম্বরেই সবচেয়ে বেশি কাজ করার সুযোগ আছে জাপানের। তারা এই জাতিগোষ্ঠির মানবাধিকার সংরক্ষণে জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটসকেও সমর্থন দিতে পারে এই সময়েই। এই সময়ে জাপান সরকার বার্মার সেনাবাহিনীর সব কোম্পানির সঙ্গে অর্থনৈতিক লেনদেন বন্ধ করতে পারে। তারা রোহিঙ্গাদের বাঁচাতে মানবিক সেবা সহায়তায় অর্থনৈতিক সাহায্য দিতে পারে।
ধর্ষণের শিকার নারীরা জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর আরো বেশি সমর্থন ও সহযোগিতা চায়। বিশেষ করে জাপান সরকারের, কেননা তাদের পলিসি বার্মার উপর বেশ প্রভাব বিস্তার করে।









