মাঠের পারফরম্যান্স, রেকর্ডস পরিসংখ্যান কিংবা সাফল্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ে ক্রিকেট শ্রীলংকা এগিয়ে থাকবে। তবে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন, মিডিয়া সুবিধায় বাংলাদেশ শ্রীলংকাকে অনেকটাই পেছনে ফেলেছে তা প্রমাণে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে ক্রিকেট শ্রীলংকা ও তার মিডিয়া ম্যানেজার দীনেশ রত্নাসিংহে।
বাংলাদেশ দল সপ্তাহখানেক ধরে শ্রীলংকায় আছে। তাদের অনুসরণ করছে বাংলাদেশের মিডিয়া। তবে প্রথম টেস্ট শুরু’র প্রথম সেশনেও বাংলাদেশি সাংবাদিকদের মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড তুলে দিতে পারেনি ক্রিকেট শ্রীলংকার মিডিয়া ডিপার্টমেন্ট। ২২ ফেব্রুয়ারি অ্যাক্রিডিটেশন ফরম পূরণ করার পর থেকেই বাংলাদেশের সাংবাদিকরা যোগাযোগ করে চলেছেন ক্রিকেট শ্রীলংকা ও তার মিডিয়া ম্যানেজার দীনেশের সঙ্গে। দিচ্ছি, দেবো করে তারা কাটিয়ে দিয়েছেন দিন দশেক।
অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা ব্যবস্থা আছে বলে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের শ্রীলংকায় পৌঁছুতে অসুবিধা হয়নি। স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অতটা আঁটসাঁট না বলে ম্যাচের আগের দিন মাঠে প্রবেশ করতেও অসুবিধা হয়নি। তবে নানা প্রয়োজনে মিডিয়া ম্যানেজার দীনেশ রত্নাসিংহে’কে কাছে পাওয়া সাত রাজার রত্নভাণ্ডার হাতে পাওয়ার মতোই দুঃসাধ্য।

এমনিতে অত্যন্ত বিনয়ী আর বন্ধুবৎসল তরুণ দীনেশ। অসুবিধার কথা জানালে মনোযোগ দিয়ে তা শোনেন, এমনকি প্রতিশ্রুতির আশ্বাসও মেলে নগদ নগদ। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আগেই হাওয়া হয়ে যান ক্রিকেট শ্রীলংকার এই মিডিয়া ম্যানেজার। ম্যাচের আগেরদিন বাংলাদেশি সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড হাতে নিয়ে ঘুরেছেন তিনি, কিন্তু তা বিতরণে তার প্রবল অনীহা। যতবার চেয়েছি ততবার একই উত্তর, দিচ্ছি, আগে চা খাও, তারপর নিও।’
বিসিবি যেমন ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিকদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করে, তার ধার দিয়েও যায়নি ক্রিকেট শ্রীলংকা। ম্যাচের দিন সকালে টস কিংবা দুই দলের জাতীয় সংগীত গেয়ে বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার ক্রিকেটাররা যখন মাঠে দাঁড়িয়েছেন, তখনও বাংলাদেশের বেশ ক’জন সাংবাদিক হন্যে হয়ে দীনেশ’কে খুঁজছেন। শ্রীলংকা ক্রিকেটের কর্মকর্তাদের কণ্ঠে সেই পুরনো গীত, ‘দীনেশ আসছে, এই পাঁচ মিনিট।’
শেষ পর্যন্ত দীনেশের সহকারী চাণক্য অস্থায়ী পাস দিয়ে বাংলাদেশের কয়েকজন সাংবাদিককে ম্যাচ শুরু’র পাঁচ মিনিটের মধ্যে প্রেসবক্সে ঢোকার ব্যবস্থা করে দেন। ম্যাচ শুরু’র এক ঘণ্টা পর সবার না হলেও কয়েকজনের মিলেছে মূল অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড। তবে দীনেশ যথারীতি লাপাত্তা। বাকি যারা অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড পাননি তারা কবে পাবেন সেই প্রশ্নেরও উত্তর দেয়ার নেই কেউ। হয়তো দীনেশকে প্রশ্ন করলে বিনয়ের হাসির সঙ্গে মিলবে গৎবাঁধা উত্তর, দিচ্ছি আর পাঁচ মিনিট। আগে চা খাও।’









