‘জীবনবৃক্ষ’ নারিকেল,পুষ্টি থেকে অর্থনীতি, সর্বত্রই গুরুত্বপূর্ণ । বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব নারিকেল দিবস’। স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতিতে নারিকেলের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং এর বহুমুখী ব্যবহার সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতেই প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়।
এ বছর বিশ্ব নারিকেল দিবসের প্রতিপাদ্য “গ্রোয়িং কোকোনাট ফর আ বেটার ফিউচার অ্যান্ড লাইফ”, যার অর্থ ‘একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ ও জীবনের জন্য নারিকেল চাষ’।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ নারিকেল?
নারিকেল গাছকে অনেক সময় ‘জীবনবৃক্ষ’ বা ‘কল্পতরু’ বলা হয়। কারণ গাছটির প্রায় প্রতিটি অংশই কাজে লাগে। খাবার থেকে শুরু করে প্রসাধন, জ্বালানি, হস্তশিল্প বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারিকেলের ব্যবহার রয়েছে।
ডাবের পানি শরীরে পানির পাশাপাশি বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। অন্যদিকে পাকা নারিকেলের শাঁস ও দুধ বাঙালির রান্না ও মিষ্টান্ন তৈরিতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নারিকেল তেলও রান্নার পাশাপাশি চুল ও ত্বকের যত্নে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
প্লাস্টিকের বিকল্পেও নারিকেল
নারিকেল শুধু খাদ্য বা পুষ্টির উৎস নয়, পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরিতেও এর বড় ভূমিকা রয়েছে।
নারিকেলের ছোবড়া ও শক্ত খোল দিয়ে দড়ি, মাদুর, ব্যাগ, জ্বালানি ও নানা ধরনের হস্তশিল্প তৈরি করা হয়। বিশেষ করে নারিকেলের তন্তু দিয়ে তৈরি পণ্য প্লাস্টিকের পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
জলবায়ু পরিবর্তনে চ্যালেঞ্জ
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে নারিকেলের ফলন ও আকারে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে উন্নত ও রোগপ্রতিরোধী জাতের নারিকেল চাষ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশে বাড়ছে সম্ভাবনা
বিশ্ব নারিকেল দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশেও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি পালন করছে। এর মধ্যে রয়েছে সচেতনতামূলক আলোচনা, কৃষকদের মধ্যে নারিকেলের চারা বিতরণ এবং নারিকেল থেকে তৈরি বিভিন্ন পণ্যের প্রদর্শনী।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নারিকেলভিত্তিক কুটির শিল্প গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে নারিকেলের বাণিজ্যিক ব্যবহার আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশীয় এই ফলের সঠিক ব্যবহার ও আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ বাড়ানো গেলে কৃষক ও গ্রামীণ অর্থনীতি দুই ক্ষেত্রেই নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।









