বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চল। এমন পরিস্থিতি জরুরি অস্ত্রোপচার এবং তুলনামূলক জটিল অপারেশন হচ্ছে বিদ্যুৎ ছাড়াই। ডাক্তাররা বলছেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীনতা তাদেরকে ‘হেড টর্চ’ ব্যবহার করে অপারেশন করা শিখিয়েছে।
শনিবার (৬ জুলাই) বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুৎ সরবরাহ তেতিয়ানার ছেলের জন্য জীবন-মৃত্যুর বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তেতিয়ানার এক সন্তান প্রতিবন্ধী হয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার সেই সন্তানের জন্য বিদ্যুৎ আবশ্যক। তার শ্বাস নিতে, খেতে এমনকি ওষুধগ্রহণ করতেও বিদ্যুতের কিংবা বিদ্যুতের সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়।
তেতিয়ানা বলেন, আমরা বিদ্যুতের ওপর খুব নির্ভরশীল। যদি এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ না হতো, আর আমাদের জীবন অন্য কোনো কঠিন বিষয়ের মুখোমুখী হতো, তবে আমরা তা মোকাবেলা করতে পারতাম।
ইউক্রেনীয়রা বর্ধিত ব্ল্যাকআউটের তথা বিদ্যৎহীনতার সাথে বাঁচতে শিখছে। কারণ ইউক্রেনের উপর চাপানো রাশিয়ার এই আগ্রাসন বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না তারা। ইউক্রেনের সকল জ্বালানি কাঠামোগুলো ধ্বংস করা রাশিয়ার লক্ষ্য।
ক্রমাগত রাশিয়ান বিমান হামলার কারণে ইউক্রেনের পূর্ব অঞলগুলো, যেখানে এখানে যুদ্ধের দামামা শুরু হয়নি, সেই অঞ্চলের অধিকাংশ জায়গা এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তা টানা ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
ওডেসার দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরীতে বসবাসকারী তেতিয়ানা বলেন, অবিরাম বিদ্যুতের বিভ্রাট জীবনকে অত্যন্ত কঠিন করে তোলে। কারণ তার সন্তানকে কোনোভাবে বিদ্যুতের বাহিরে রাখার সুযোগ নেই।
যদিও তার সন্তানের এই অসুস্থতার জন্য এরই মধ্যে তিনি একটা জেনারেটর সংগ্রহ করেছেন, যা পেট্রোলের সাহায্যে চলে। কিন্তু এটি প্রতি ৬ ঘণ্টা পর ঠান্ডা হওয়ার জন্য কিছুক্ষণ বন্ধ রাখার প্রয়োজন হয়। অথচ এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুতহীন থাকায়, ব্যাপক সমস্যায় পড়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মোবাইলফোনেও সমস্যা হচ্ছে। আমার সন্তানের জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স ডেকেও মাঝে মাঝে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স আসতে ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। অথচ তাকে মাঝে মাঝে এক মিনিটও অক্সিজেন ছাড়া বাঁচানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
তেতিয়ানার দাবি, তার মতো এমন সমস্যায় পড়েছেন ইউক্রেনের অধিকাংশ নাগরিক।
দাঁতের ডাক্তার ভলোডিমির স্টেফানিভ বলেন, জরুরি এবং তুলনামূলক কম জটিল অপারেশনগুলো ব্ল্যাকআউট তথা বিদ্যুতহীন অবস্থায় একটি হেড টর্চ ব্যবহার করে করতে হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর তিনি এই পদ্ধতিতে অপারেশন করা শিখেছেন বলেও জানান।
তিনি বলেন, জরুরি প্রয়োজনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি আমাদের জরুরি সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমাদের হাতে অপশন না থাকায় এমনটি করতে হয়।
স্টেফানিভ বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম সারির সৈন্যদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার সময় প্রায় বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকতো না। আর সেই অবস্থায় তাদের জরুরি অপারেশন করতে হয়েছে। সেখান থেকেই শুধুমাত্র হেড টর্চ ব্যবহার করে অপারেশন করতে শুরু করি।








