জার্মানিতে ক্রিসমাস বাজারে ‘হামলার’ ঘটনায় সৌদি আরবের এক ডাক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিএমডব্লিউ গাড়ির মাধ্যমে চালানো এই হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক ব্যক্তি।
শনিবার (২১ ডিসেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে সন্দেহভাজন সৌদি ডাক্তার সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম তালেব। তিনি সৌদি আরবের এক ডাক্তার। তবে ২০০৬ থেকেই জার্মানিতে থাকছেন তিনি। তার বয়স আনুমানিক ৫০ বছর।
বার্লিন থেকে ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম মাগদেবার্গ শহরের একটি বাজারে ওই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় ক্রিসমাস বাজারে কেনাকাটায় ব্যস্ত ছিলেন বহু মানুষ। হঠাৎ দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে সৌদির ডাক্তার তালেব উন্মাদের মতো একের পর এক মানুষকে ধাক্কা দিতে থাকেন।
জানা গেছে, ৫০ বছরের তালেব এক সময় মুসলিম ছিলেন। তবে একই সাথে তিনি ছিলেন ইসলামের কট্টর বিরোধী। জার্মানির চরম ডানপন্থী দল ‘অলটারনেটিভ ফর জার্মানি’ এর সমর্থক তিনি। ওই দল অভিবাসন নীতির পরিপন্থী।
তালেবকে দীর্ঘদিন ধরেই খুঁজছিল জার্মান প্রশাসন। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ, নারী পাচার করে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে পাঠানোর গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তা সত্ত্বেও সৌদিতে পাঠানো হয়নি তাকে।
এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রিসমাসের আগে শুক্রবার পূর্ব জার্মানির শহরের বাজার মানুষে পুরিপূর্ণ ছিল। সেইসময় হঠাৎ প্রবল গতিতে ছুটে আসে একটি গাড়ি। কেউ কিছু বোঝার আগেই গাড়ির চাকায় পিষ্ট হন অনেকে। তার জেরে এক শিশুসহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৬০ জন। প্রশাসনের আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সাল থেকেই জার্মানিতে থাকছেন সৌদি আরবের এই ডাক্তার। হামলার শহর অর্থ্যাৎ ম্যাগডেবার্গ থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে বার্নবার্গ নামে একটি জায়গায় প্র্যাকটিস করেন তিনি। যদিও হামলার কারণ বা উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয় কর্তৃপক্ষ।









