অবৈধ অভিবাসন রোধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর পদক্ষেপের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন উচ্চ খরচের কারণে অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর জন্য সামরিক উড়োজাহাজ ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, গত ১ মার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে শেষ সামরিক উড়োজাহাজ পাঠানো হয়েছিল এবং এই ধরনের পদক্ষেপ স্থগিত বা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পরপরই অভিবাসীদের তাদের নিজ দেশে বা গুয়ান্তানামো বেতে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটিতে পাঠানোর জন্য সামরিক উড়োজাহাজের ব্যবহার শুরু করে।
ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসন বিরোধী কঠোর নীতির বার্তা দেওয়ার জন্য সামরিক উড়োজাহাজের ব্যবহার করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গত সপ্তাহে গুয়ান্তানামো বে পরিদর্শনের সময় বলেছিলেন, বার্তাটি স্পষ্ট, যদি আপনি আইন ভঙ্গ করেন, যদি আপনি একজন অপরাধী হন, তাহলে আপনি গুয়ান্তানামো বেতে আপনার পথ খুঁজে পেতে পারেন। আপনি সেখানে থাকতে চাইবেন না।
ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র সি-১৭ এবং সি-১৩০ উড়োজাহাজ ব্যবহার করে প্রায় ৩০টি অভিবাসী ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে ভারত, পেরু, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, পানামা, ইকুয়েডর এবং গুয়ান্তানামো বে গন্তব্য ছিল। ফেব্রুয়ারিতে, কয়েকশ ভারতীয় অভিবাসীকে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি কার্গোতে ভারতে পাঠানো হয়। অভিবাসীরা জানিয়েছে, তারা পুরো ফ্লাইট জুড়ে শেকলবন্দী অবস্থায় ছিলেন, তবে ভারতে পৌঁছানোর পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
ঐতিহ্যগতভাবে, অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর দায়িত্ব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের, যা বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ ব্যবহার করে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর বার্তা পাঠাতে সামরিক উড়োজাহাজ ব্যবহার করেছিল। এই বিমানগুলো দীর্ঘ যাত্রা করেছিল এবং সাধারণ বাণিজ্যিক ফ্লাইটের তুলনায় বেশি খরচে কম সংখ্যক অভিবাসী পরিবহন করেছিল। উদাহরণস্বরূপ, ভারতে তিনটি নির্বাসন ফ্লাইটের প্রতিটির খরচ ছিল ৩ মিলিয়ন ডলার। গুয়ান্তানামো বেতে মাত্র এক ডজন অভিবাসী বহনকারী ফ্লাইটের প্রতিটি ব্যক্তির খরচ ছিল কমপক্ষে ২০,০০০ ডলার।









