যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এইচ-১ বি ভিসায় দেশটিতে প্রবেশ করতে আগ্রহী নির্দিষ্ট বিদেশি কর্মীদের জন্য ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা আরও এক বছর বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিতে চাওয়া মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় ধরনের আর্থিক বাধা বহাল থাকছে।
শুক্রবার জারি করা নতুন প্রেসিডেন্টের ঘোষণাপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম চালু হওয়া এই বিধিনিষেধ ২০২৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এইচ-১বি কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগকর্তারা প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গবেষণা এবং অন্যান্য বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের জন্য আবেদন করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে আগ্রহী ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য এই কর্মসূচি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৯০ সালে মার্কিন কংগ্রেস এইচ-১বি কর্মসূচি চালু করে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ভারত ও চীন থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগে ব্যাপকভাবে এই ভিসা ব্যবহার করে থাকে। তবে এইচ-১বি ভিসার সবচেয়ে বড় উৎস ভারত।
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থার (ইউএসসিআইএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে অনুমোদিত এইচ-১বি আবেদনের ৭১ শতাংশ সুবিধাভোগী ছিলেন ভারতে জন্ম নেওয়া ব্যক্তি। চীনে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ১১ দশমিক ৭ শতাংশ।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, কিছু নিয়োগকর্তা বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী সরবরাহ ও আউটসোর্সিং খাতে তুলনামূলক কম বেতনের বিদেশি কর্মী নিয়োগে এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার করে। প্রশাসনের দাবি, ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা এ ধরনের নিয়োগ নিরুৎসাহিত করবে এবং উচ্চ দক্ষতা ও বেশি বেতনের কর্মী নিয়োগে প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করবে।
আগের এইচ-১বি ব্যবস্থায় নিয়োগকর্তাদের যে সরকারি ফি দিতে হতো, তার তুলনায় নতুন ১ লাখ ডলারের অর্থের পরিমাণ অনেক বেশি। তবে নিয়োগকর্তা ও আবেদনের ধরন অনুযায়ী আগের ফি ভিন্ন ছিল।
১ লাখ ডলারের এই অর্থ পরিশোধের বিধান নিয়ে আইনি লড়াই চলছে। জুনে ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালত রায় দেন, এই অর্থ পরিশোধের শর্ত আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন তার ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়েছে। আদালত এ সংক্রান্ত সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ বাতিল করেন।
পরে বোস্টনভিত্তিক প্রথম ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিল প্রশাসনের আপিল চলাকালে ওই রায় স্থগিত করতে অস্বীকৃতি জানায়।
এ ছাড়া ইউএস চেম্বার অব কমার্সও এই নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলাটি বর্তমানে ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিটের ইউএস কোর্ট অব আপিলসে চলছে।
সব এইচ-১বি কর্মীর ক্ষেত্রে এই অর্থ পরিশোধের শর্ত প্রযোজ্য নয়। ঘোষণাপত্রে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা এবং নতুন আবেদনের আওতায় দেশটিতে প্রবেশ করতে চাওয়া নির্দিষ্ট এইচ-১বি কর্মীদের লক্ষ্য করা হয়েছে।
প্রশাসনের নীতিমালা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি শিক্ষার্থীরা পরবর্তী সময়ে এইচ-১বি মর্যাদা নিলে তাদের ক্ষেত্রে এই অর্থ প্রযোজ্য নয়। একইভাবে বিদ্যমান এইচ-১বি ভিসা নবায়নের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য নয়।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে কোনো কর্মী, প্রতিষ্ঠান বা শিল্পখাতের ক্ষেত্রে এই শর্ত থেকে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিবের।
ব্যবসায়িক সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে তারা উচ্চ দক্ষতার পেশাজীবী নিয়োগ করতে পারে এবং যেসব পদে পর্যাপ্ত যোগ্য মার্কিন কর্মী পাওয়া যায় না, সেসব পদ পূরণ করা সম্ভব হয়।
তবে বিধিনিষেধের সমর্থকদের অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম বেতনের বিদেশি কর্মী নিয়োগে এই কর্মসূচি ব্যবহার করে।
নতুন বিধিনিষেধ ও আবেদন প্রক্রিয়ার কঠোরতার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ পরিকল্পনাতেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এইচ-১বি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কেউ কেউ ভারতে তাদের কার্যক্রম ও নিয়োগ বাড়িয়েছে।
গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটসহ বড় এইচ-১বি ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ভারতে কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়টি সামনে এসেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা ব্যবহারে বিধিনিষেধ বাড়ালে প্রযুক্তি খাতের কিছু কাজ যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার বদলে বিদেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে ভারতে সম্প্রসারণের কতটা সরাসরি এইচ-১বি বিধিনিষেধের কারণে হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত বাড়ানোর পাশাপাশি এইচ-১বি আবেদন পর্যালোচনায় নতুন নির্দেশনাও দিয়েছেন ট্রাম্প।
এক নির্বাহী আদেশে ফেডারেল সংস্থাগুলোকে বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি একই ধরনের পদে থাকা মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করেছে কি না বা ভবিষ্যতে করার পরিকল্পনা আছে কি না, তা এইচ-১বি আবেদন পর্যালোচনার সময় বিবেচনায় নিতে।
এ ছাড়া এইচ-১বি কর্মসূচি পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ও তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।









