একসময় বিকেল হলেই টেলিভিশনের সামনে বসে পড়ত শিশুরা। অপেক্ষা থাকত প্রিয় কার্টুনের জন্য। সেই সময়ের জনপ্রিয় চরিত্রগুলোর মধ্যে মীনা ছিল আলাদা। সঙ্গে ভাই রাজু আর পোষা টিয়া পাখি মিঠু। মীনার গল্পে বিনোদনের পাশাপাশি উঠে আসত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিশুর অধিকার ও সমতার নানা বার্তা।
আজ ২৪ সেপ্টেম্বর, মীনা দিবস। বাংলাদেশে প্রতিবছর এই দিনে দিবসটি পালন করা হয়। ১৯৯৮ সালে শিশু অধিকার সপ্তাহের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে মীনা দিবস উদ্যাপন শুরু হয়। শিশুদের অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মেয়েশিশুর সমঅধিকার নিয়ে সচেতনতা তৈরিই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
মীনা ইউনিসেফের তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র। তার বয়স নয় বছর। দক্ষিণ এশিয়ার মেয়েশিশুদের নানা বাস্তবতা তুলে ধরতে চরিত্রটি তৈরি করা হয়। মীনা স্কুলে যেতে চায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে এবং বৈষম্যের প্রতিবাদ করে।
মীনার সঙ্গে থাকত তার ভাই রাজু ও পোষা টিয়া পাখি মিঠু। তাদের ঘিরে তৈরি গল্পগুলোতে কখনো মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা, কখনো সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান, আবার কখনো স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার মতো বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশেই মীনার প্রথম সম্প্রচার শুরু হয়। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে ‘মুরগিগুলো গুনে রাখো’ গল্পের মাধ্যমে মীনার যাত্রা শুরু হয়। গল্পটিতে মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
তখন ইউটিউব, ফেসবুক কিংবা স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ছিল না। নির্দিষ্ট সময়ে টেলিভিশনের সামনে বসেই প্রিয় অনুষ্ঠান দেখতে হতো। ফলে মীনার একটি পর্ব দেখার অপেক্ষাও ছিল শিশুদের জন্য আলাদা আনন্দের।
মীনার গল্প শুধু টেলিভিশনে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ২৬টি টেলিভিশন চলচ্চিত্রের পাশাপাশি রেডিও অনুষ্ঠান, কমিক বই ও অন্যান্য প্রকাশনাতেও এসেছে চরিত্রটি। বাংলাদেশ ছাড়িয়ে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানেও মীনা জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
মীনার চরিত্র ও পোশাক কেমন হবে, তা নির্ধারণের আগে ইউনিসেফ ১০ হাজারের বেশি শিশুর মতামত নিয়েছিল। বাংলাদেশে শহরের প্রায় ৯৭ শতাংশ এবং গ্রামের ৮১ শতাংশ শিশু-কিশোর-কিশোরী মীনাকে চেনে বলেও ইউনিসেফের এক তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
সময় বদলেছে। এখন শিশুরা মোবাইল ফোন, ইউটিউব ও বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে পছন্দের কার্টুন দেখতে পারে। কিন্তু একসময় টেলিভিশনের পর্দায় মীনার জন্য অপেক্ষা করা প্রজন্মের কাছে মীনা এখনো শৈশবের নস্টালজিয়ার অংশ।
শিক্ষা, সমতা, শিশুর অধিকার ও নিরাপত্তার যে বার্তা মীনার গল্পে তুলে ধরা হয়েছিল, সেগুলো এখনো প্রাসঙ্গিক। তাই মীনা দিবস পুরোনো দিনের একটি কার্টুন চরিত্রকে স্মরণ করার পাশাপাশি শিশুদের জন্য সেই বার্তাগুলো নতুন করে মনে করিয়ে দেওয়ারও একটি উপলক্ষ।









