বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে শেখ হাসিনাকে অপসারণের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালের প্রথমদিকে শুরু করেছিল বলে উল্লেখ করেছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দ্য সানডে গার্ডিয়ান।
দ্য সানডে গার্ডিয়ান জানায়, এই পরিকল্পনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পরিচালিত সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত সংস্থাগুলো দ্বারা কার্যকর করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যারা এই পরিকল্পনার তদারকি করেছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন ক্রিস মারফি, সুমনা গুহ, ডোনাল্ড লু, সারাহ মার্গন এবং ফ্রান্সিসকো বেনকুম।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালের প্রথম দিক থেকেই হাসিনাকে অপসারণের পরিকল্পনা করে আসছে। এই নথিগুলোর ওপর ভিত্তি করে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কিছু সংস্থা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেয়। মঙ্গোলিয়া (১৯৯৬), হাইতি (২০০১) এবং উগান্ডা (২০২১) এর মতোই বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইন্সটিটিউট (আইআরআই) যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনে একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি (এনইডি) এবং ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএআইডি) মূলত আইআরআই-কে দায়িত্ব দেয়।
নথিগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের হস্তক্ষেপ প্রতিরোধের জন্য প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ভারতের প্রভাব প্রতিহত করতে এই প্রকল্প প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এই নথিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পাঁচজন কর্মকর্তা এবং ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের তিনজন কর্মকর্তা, ইউএসএআইডির দুইজন কর্মকর্তা এবং একজন রাজনৈতিক কর্মকর্তাকে প্রাথমিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্য সানডে গার্ডিয়ান তাদের নাম প্রকাশ করতে চায়নি।
তবে সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে যারা এই পুরো প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধান করেছেন তাদের মধ্যে ক্রিস মার্ফি (ডি-সিটি), এসএফআরসি (দক্ষিণ এশিয়া উপকমিটি), সুমনা গুহ (দক্ষিণ এশিয়া পরিচালক, ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল), ডোনাল্ড লু (স্টেট ডিপার্টমেন্টের ইনকামিং অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি), সারাহ মার্গন (ডিআরএল, স্টেট ডিপার্টমেন্টের ইনকামিং অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি) এবং ফ্রান্সিসকো বেনকোসমে (স্টেট ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র অ্যাডভাইজার) এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে শেখ হাসিনা বারবারই দাবি করেছেন, তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত ছিল। তখন যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, তারা এই ঘটনার সঙ্গে কোনভাবেই যুক্ত নয়।









