ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত পণ্য এবং নির্দিষ্ট কিছু সেবার বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিতে পারেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড।
সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে দেশটির ইসরায়েল নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিতে পারেন মিলিব্যান্ড। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের অধিকার, আন্তর্জাতিক আইন এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি যুক্তরাজ্যের সমর্থন আরও জোরালোভাবে তুলে ধরবেন তিনি। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
গাজায় ফিলিস্তিনিদের মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও আগের ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের তুলনায় আরও কঠোর ভাষায় কথা বলতে পারেন মিলিব্যান্ড। প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠনগুলোর সব দাবি পূরণ না করলেও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে যুক্তরাজ্যের অবস্থান কঠোর করার ইঙ্গিত দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান অনুযায়ী, ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েলের দখলে যাওয়া পশ্চিম তীরের ভূখণ্ডে গড়ে ওঠা সব ইসরায়েলি বেসামরিক বসতিই আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ।
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের পাশাপাশি অর্থায়ন ও বিজ্ঞাপনের মতো কিছু সেবাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। ফলে এসব বসতিতে বিনিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট কিছু অর্থনৈতিক কার্যক্রমও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসতে পারে।
ব্রিটিশ সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন নীতিকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) পরামর্শমূলক মতামতে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্বে সহায়তা না করার বিষয়ে রাষ্ট্রগুলোর প্রতি যে অবস্থান তুলে ধরা হয়েছিল, নতুন পদক্ষেপ তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এর আগে যুক্তরাজ্য বলেছিল, ইসরায়েল থেকে আমদানি করা পণ্য এবং অবৈধ বসতি থেকে আসা পণ্যের মধ্যে কার্যকরভাবে পার্থক্য করা কঠিন। তবে এবার বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করতে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
২০০৫ সাল থেকেই ইসরায়েল অধিকৃত ভূখণ্ডে অবস্থিত বসতিতে উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা পায় না। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২৫ সালে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে পণ্য ও সেবার মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬০০ কোটি পাউন্ড। নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে দুই দেশের বাণিজ্যে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা ইসরায়েলের সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপের ওপরও নির্ভর করবে।
গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে ইসরায়েলি বাহিনী অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করছে বলেও মিলিব্যান্ড তার বক্তব্যে অভিযোগ করতে পারেন। তবে ইসরায়েল এ অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
তবে গাজায় ত্রাণ প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তাৎক্ষণিক কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা সেখানে সংঘটিত ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করার পরিকল্পনা নেই বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলায় যুক্তরাজ্য যোগ দেবে কি না, সেই সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করা হয়নি।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়ার মধ্যেই যুক্তরাজ্য নতুন এই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। পূর্ব জেরুজালেমের কাছে ই১ নামে পরিচিত বসতি প্রকল্প নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীর কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইসরায়েলি বসতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছে। নেতানিয়াহু নিজেও কিছু অবৈধ বসতি প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে সেগুলো ভেঙে ফেলার কথা বলেছেন।
তবে যুক্তরাজ্যের নতুন নীতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমালোচনার মুখে পড়তে পারে। এর আগে গাজায় ত্রাণ আটকে দেওয়ার অভিযোগ তোলার পর মিলিব্যান্ডের বক্তব্যের জবাবে ইসরায়েল পাল্টা পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছিল।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরেও সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ৪৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে। বিপক্ষে মত দিয়েছেন ১৮ শতাংশ।









