পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নওমান মাহমুদকে মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্সের প্রথম মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রকাশিত সূত্রে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রিয়াদে প্রতিষ্ঠিত হতে যাওয়া জোটটির জেনারেল সেক্রেটারিয়েটের নেতৃত্ব দেবেন নওমান মাহমুদ।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান গত মাসে জানিয়েছিলেন, তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা জোটের মহাসচিব হিসেবে একজন পাকিস্তানি দায়িত্ব পালন করবেন। এর পরই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে নওমান মাহমুদের নিয়োগের ঘোষণা এলো।
গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করে। পরে এর নাম পরিবর্তন করে ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ রাখা হয়।

চুক্তির আওতায় গঠিত স্ট্র্যাটেজিক পলিটিক্যাল অ্যান্ড ডিফেন্স কমিটির প্রথম বৈঠক গত মাসে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেন উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এবং সেনাপ্রধান ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির।
বৈঠকে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানসহ দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের ও তুরস্কের জেনারেল স্টাফের প্রধান সেলচুক বায়রাকতারওগ্লু অংশ নেন।
তিন দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন এই জোট কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত হবে না। বরং তিন মিত্র দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি হিসেবে এটি কাজ করবে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আরও জানিয়েছিলেন, পরবর্তী ধাপে মিসরও এই জোটে যোগ দিতে পারে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে তিনি বলেন, মিসরের যোগদানের পথে এখন কয়েকটি কারিগরি বিষয় সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশও এই জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এর আগে বলেছিলেন, তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবকে নিয়ে গঠিত কোনো অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা কাঠামোতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে দেশের নিজস্ব স্বার্থ এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা হবে।









