আলোর ইশকুল কার্যক্রমের মুক্ত আলোচনায় সঙ্গীত বিষয়ক বক্তৃতা ‘বাংলা গানে কথা ও সুরের গুরুত্ব’-এর প্রথম পর্ব আজ শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সকাল ১১ টা ৩০ মিনিটে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ষষ্ঠ তলার মিলনায়তনে ৫০৫ নং কক্ষে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেছেন, বর্ষীয়ান সংগীত সাহিত্যিক ও মননশীল সংগীতশিল্পী মুত্তালিব বিশ্বাস।
তিনি বলেন, শুধু কথাটা গান নয়, শুধু সুরটাও গান নয়। সুরের সাথে কথার সম্পর্ক না ঘটানো পর্যন্ত তাকে গান বলা যাবে না। বাংলা গান বাণী বা কথাপ্রধান। সুরপ্রধান বাংলা গানও আছে তবে তা খুব কমই শোনা যায়। যেমন রবীন্দ্রসংগীত কথাপ্রধান। এর সুর তেমন আহামরি নয়। কিন্তু নজরুলগীতি কথাপ্রধানও আছে আবার সুরপ্রধানও আছে।
এরপর তিনি আলোচনার বিভিন্ন প্রসঙ্গে গেয়ে শোনান ‘উজান দেশের মাঝি ভাইধন ভাটির দেশে যাও’, ‘এই করেছ ভালো নিঠুর হে’, ‘নদীর কূল নাই কিনার নাই রে/ আমি কোন কূল হতে কোন কূলে যাব কাহারে শুধাই রে’, ‘তোমার পূজার ছলেই তোমায় ভুলে থাকি।’
মুত্তালিব বিশ্বাসের জন্ম ১৯৩৫ সালে, অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার বালি গ্রামে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ সালে তিনি ‘মুসলিম শিল্পকলা স্থাপত্য ও প্রত্নতত্ব’ বিষয়ে এম এ পাশ করেন। সংগীত-বিষয়ে তাঁর শিক্ষা পশ্চিমবঙ্গের গৌরাঙ্গ গুপ্ত, নবাব জানি মির্জা, সনৎ বন্দোপাধ্যায় ও উস্তাদ কাদের বখস এবং বাংলাদেশের আতিকুল ইসলাম, সুধীন দাশ, গোপাল দাশ ও ওস্তাদ মুনশী রইসউদ্দীন প্রমুখের কাছে।
ঢাকাস্থ বুলবুল ললিতকলা একাডেমি (বাফা) থেকে ১৯৬৫ সালে তিনি রবীন্দ্রসংগীত বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন।
একই প্রতিষ্ঠানে ১৯৮২ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত রবীন্দ্রসংগীতের শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। থিয়েটার স্কুল-সহ বিভিন্ন নাট্য প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিভিন্ন জেলা-শাখায় সংগীত ও নাট্যকলা বিষয়ক নন্দনতত্ত্ব এবং অভিনয়-কলায় সংগীতের ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দান করেন।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের উপপরিচালকের পদ থেকে ১৯৯২ সালে তিনি অবসর গ্রহন করেন। ২০০৩ সাল থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশ স্কুল অফ পারফর্মিং আর্টস, সুরছন্দ, সংগীত জগত প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন।
মুত্তালিব বিশ্বাস বিগত চার দশক যাবত সংগীত বিষয়ে লিখে আসছেন। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তাঁর সংগীত বিষয়ক প্রবন্ধাদি। এছাড়াও সংগীত বিষয়ে বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর চারটি বই। সেগুলো হচ্ছে- ‘সংগীত বিমর্ষ’, ‘মন্দ্রমধ্যতার’, ‘সংগীত বিতর্ক’ ও ‘সংগীত ভাবনা’।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রতি শুক্রবার আলোর ইশকুল এর উদ্যোগে দেশের মেধাবী, প্রজ্ঞাবান ও বিদগ্ধ আলোচকদের নিয়ে বিচিত্র বিষয়ে আলোচনার আয়োজন করে থাকে। মুক্ত আলোচনার এই নিয়মিত আয়োজনটি উপভোগ করতে আগ্রহী সকলকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত।
উল্লিখিত, সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি আপনার বহুল প্রচারিত সংবাদ মাধ্যমে প্রচার/প্রকাশ করার জন্যে আপনাকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।









