চুয়াডাঙ্গা জেলার সীমান্ত উপজেলা দর্শনা বারাদী সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠক শেষে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত ২ বাংলাদেশী দু’যুবকের মরদেহ ১৪ দিন পর ফেরত দেওয়া হয়েছে। শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে দু’দেশের মধ্যে এ পতাকা বৈঠক হয়।
দর্শনা পুলিশ ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান জানান, জেলার দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের বেকারাস্তা পাড়ার সাজেদুর রহমান ওরফে সাইদুল (২৫) ও একই পাড়ার খাঁজা মঈনুদ্দিন (৩২) সহ ৫-৬ জন গরু ব্যবসায়ী ১৬ ডিসেম্বর (শনিবার) সন্ধ্যার পর দর্শনার কামারপাড়া-বারাদী সীমান্তের ৮২ মেইন পিলারের কাছ দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করেন। ওইদিন গভীর রাতে তারা ভারতের নদীয়া জেলার কৃষ্ণগঞ্জ থানার ৩২ গোবিন্দপুর বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহল দলের মুখোমুখি হয়। সেসময় বিএসএফ সদস্যরা গরু ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়লে ঘটনাস্থলে সাইদুল ও খাঁজা মইনুদ্দিন নিহত হন।
ঘটনার পরদির সকালে ভারতের গোবিন্দপুর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা মরদেহ দুটি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়। পরে মরদেহ ফেরত চেয়ে বিজিবি-বিএসএফকে পত্র দিলেও বিএসএফ তাতে সাড়া না দেওয়ায় এতদিন তা ফেরত পাওয়া যায়নি।
গত বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে দর্শনার বারাদী সীমান্তে দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পতাকা বৈঠক হলেও আইনী জটিলতার কারণে মরদেহ গ্রহণ করা হয়নি বলে জানায় বিজিবি। এতে ওইদিন মরদেহ নিয়ে ফিরে যায় বিএসএফ।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার সাহা জানান, ৩০ ডিসেম্বর শনিবার ৮২ নং পিলারের কাছে কৃষ্ণনগর থানার ওসি বিপেন সরকার মরদেহ হস্তান্তর করলে তিনি তা গ্রহন করেন। এদিন সন্ধার পর মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
সেসময় বিজিবির চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের এডি মো. হায়দার ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার রাজেস নারায়ন উপস্থিত ছিলেন।









