চলতি মাসে নতুন শিক্ষাবর্ষে বিশ্বজুড়ে শিক্ষার্থীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে খুব দ্রুত হোমওয়ার্ক শেষ করছে। কিন্তু প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে প্রকৃত শিক্ষণ ব্যাহত হওয়ায় তারা মাসিক ও ভর্তি পরীক্ষায় পিছিয়ে পড়ছে।
বুধবার ২ সেপ্টেম্বর তথ্যটি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
শ্রেণিকক্ষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিস্তার ঘটেছে। কোটি কোটি শিক্ষার্থী স্কুলে ফিরলেও এআই তাদের শেখার প্রক্রিয়া বদলে দিয়েছে। হোমওয়ার্কের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নতুন করে ভাবছেন।

বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডেভিড স্ট্রমবার্গ, হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিক্টর লেই ও ইয়ানহুই একটি বড় গবেষণা চালান। তারা চীনের ২৭ হাজার শিক্ষার্থীকে ৩০ মাস পর্যবেক্ষণ করেন।
গবেষণায় নয়টি বিষয়ের হোমওয়ার্ক ও পরীক্ষার তথ্য যুক্ত করা হয়। এতে দেখা যায় জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের পর শিক্ষার্থীদের হোমওয়ার্কের স্কোর ১৮ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিটি অ্যাসাইনমেন্টে তাদের ব্যয় করা সময় প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যায়।
শিক্ষার্থীদের কাজ শেষ করার গড় সময় ৬৪ মিনিট থেকে ৪৫ মিনিটে নেমে আসে। কিন্তু এআই ছাড়া মাসিক পরীক্ষায় বসলে তাদের স্কোর ২০ শতাংশ কমে যায়। মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ফলাফলে এই মারাত্মক অবনতি দেখা যায়।
গুরুত্বপূর্ণ ভর্তি পরীক্ষাতেও শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্স দীর্ঘমেয়াদে হ্রাস পেয়েছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থাও ঠিক একই ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। সংস্থাটি ডিজিটাল এডুকেশন আউটলুক ২০২৬ প্রতিবেদনে বিষয়টি বিস্তারিত জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয় এআই সাময়িক কর্মক্ষমতা বাড়ালেও প্রকৃত জ্ঞান একদমই বাড়ায় না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে কাজ দিলে শেখার ক্ষেত্রে কোনো প্রকৃত অগ্রগতি হয় না। গবেষক দ্রাগান গাসেভিচ একে চিন্তনসচেতন অলসতা বলে আখ্যা দিয়েছেন।
শিক্ষার্থীরা কীভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করছে সেটিই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভোডাফোন ফাউন্ডেশনের জন্য ইপসোস ইউরোপের সাতটি দেশে একটি বড় সমীক্ষা চালায়। এতে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৭ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
সমীক্ষায় দেখা যায় ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী তথ্য সংগ্রহ করতে এআই ব্যবহার করে। ৪৫ শতাংশ শিক্ষার্থী বিভিন্ন জটিল ধারণা বুঝতে এর সাহায্য নেয়। তবে ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ সমাধানের জন্য এটি কাজে লাগায়।
শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জীবনে এআই এখন আর শুধু পড়ার মাধ্যম নেই। এটি তাৎক্ষণিক সাহায্য ও সহজে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠছে।
যুক্তরাজ্যের স্নাতক পর্যায়ের এক হাজার ৫৪ জন শিক্ষার্থীর ওপর আরেকটি সমীক্ষা চালানো হয়।
সমীক্ষায় ৪৯ শতাংশ শিক্ষার্থী জানায় এআই তাদের জীবন উন্নত করেছে। এতে প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের একাকীত্ব নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছিল। ৫৯ শতাংশ শিক্ষার্থী জানায় এআই তাদের একাকীত্বে কোনো পরিবর্তন আনেনি।
তবে ২১ শতাংশ শিক্ষার্থী আগের চেয়ে কম একাকী বোধ করেছে। অন্যদিকে ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী আগের চেয়ে বেশি একাকীত্ব অনুভব করেছে বলে জানিয়েছে। বিশ্বের কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে এআই গ্রহণে অনেক দূর এগিয়েছে।
চীনে বছরে অন্তত আট ঘণ্টা এআই নির্দেশনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কাতার নিজেদের পাঠ্যক্রমে এআই অন্তর্ভুক্ত করেছে। তবে প্রযুক্তি সরিয়ে রাখলে মানুষের নিজস্ব জ্ঞান কতটুকু থাকে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।









