এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ইরান যুদ্ধ ও পশ্চিম এশিয়ায় চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে জার্মানিতে গোপন বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইরানের হামলা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খবর মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের।
ইসরায়েলের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার এডমিরাল ব্র্যাড কুপারের আয়োজনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের বিষয়ে কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না দিলেও পরে সেন্টকম বিষয়টি নিশ্চিত করে।
প্রায় ছয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানোর পর এটিই ছিল এ ধরনের প্রথম উচ্চপর্যায়ের সামরিক বৈঠক। এতে ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান ও মিশরের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
বৈঠকে এডমিরাল কুপার অংশগ্রহণকারীদের আশ্বস্ত করেন, ইরানের হামলায় মার্কিন ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনাও আলোচনায় আসে।
ইসরায়েলি এক কর্মকর্তা জানান, দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চিফ অব স্টাফ জেনারেল ইয়াল জামির বিভিন্ন ফ্রন্টে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক কার্যক্রম সম্পর্কে বৈঠকে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, জার্মানিতে অনুষ্ঠিত একটি নির্ধারিত সম্মেলনে আট দেশের ঊর্ধ্বতন সামরিক নেতাদের আতিথেয়তা দেওয়া হয়। সেখানে পশ্চিম এশিয়ায় নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে আব্রাহাম চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বাড়ে। এর ধারাবাহিকতায় ইসরায়েলকে মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ডের (ইউএসইউকম) আওতা থেকে সরিয়ে সেন্টকমের অধীনে নেওয়া হয়। এতে কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের যৌথ আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়।
চলমান ইরান যুদ্ধে ইসরায়েল সংযুক্ত আরব আমিরাতে আয়রন ডোম ব্যবস্থা ও সামরিক সদস্য মোতায়েন করেছে বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশটিকে রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এদিকে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে ঘিরে হুথিদের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। হুথিরা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরবে হামলা জোরদার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক সূত্রের দাবি, সেন্টকমের সহযোগিতায় ইসরায়েল ও সৌদি আরব আলোচনা করছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো সৌদি আরবকেও হুথিবিরোধী সামরিক কার্যক্রমে ইসরায়েল কীভাবে গোয়েন্দা ও নজরদারি সহায়তা দিতে পারে।









