আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন জার্মানির তারকা ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার। ২০২৬ বিশ্বকাপে জার্মানির জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলার দুই মাস পর জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন ৩৩ বর্ষী ফুটবলার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে রুডিগার জানান, দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পরই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে জাতীয় দলে তরুণদের সুযোগ করে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
বলেছেন, ‘কিছু সময় ভেবেচিন্তে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জাতীয় দল থেকে বিদায় নেওয়ার এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য পথ তৈরি করে দেওয়ার সময় এখন এসেছে।’
২০১৪ সালে জার্মানির হয়ে অভিষেক হয় রুডিগারের। সে বছর বিশ্বকাপ দলে জায়গা না পেলেও পরবর্তী সময়ে জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য হয়ে ওঠেন তিনি, খেলেছেন ৩টি বিশ্বকাপ। জার্মানির জার্সিতে খেলেছেন ৮৬ ম্যাচ। ডিফেন্ডার হওয়াতে গোল দেয়ার সুযোগ কম। তবে ৩টি গোল করেছেন এবং ৫টিতে অ্যাসিস্ট করেছেন।
জাতীয় দল ছাড়ার পর এখন ক্লাব ফুটবলে মনোযোগ দিতে চান রুডিগার। রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে তার চুক্তি রয়েছে চলতি মৌসুমের শেষ পর্যন্ত। বলেছেন, ‘আমার জন্য নতুন এক অধ্যায় শুরু হচ্ছে, যেখানে আমি সম্পূর্ণভাবে আমার ক্লাবেই মনোযোগ দেব।
স্টুটগার্ট ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের যুব একাডেমি পেরিয়ে রোমায় খেলেছেন রুডিগার। ২০১৭ সালে চেলসিতে যোগ দিয়ে ২০২১ সালে জেতেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। এরপর ২০২২ সালে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন। ২০২৩-২৪ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পাশাপাশি লা লিগা জেতেন।
জার্মানির হয়ে রুডিগার অবশ্য আন্তর্জাতিক বড় কোনো শিরোপা জেতেনি। ২০১৭ সালের কনফেডারেশন্স কাপ জয়ই জাতীয় দলের হয়ে তার সবচেয়ে বড় অর্জন।
২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও ব্যর্থ হয় জার্মানি। প্যারাগুয়ের কাছে হেরে রাউন্ড অব বত্রিশ থেকেই বিদায় নেয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেই ম্যাচটিই ছিল জার্মানির জার্সিতে রুডিগারের শেষ ম্যাচ।
শিরোপা না জিতলেও জাতীয় দলের অভিজ্ঞতা অনুপ্রাণিত করবে রুডিগারকে। বলেছেন, ‘যদিও সাম্প্রতিক টুর্নামেন্টগুলোতে বড় কোনো শিরোপা আমাদের ছোঁয়া হয়নি এবং বেশ কিছু কষ্টদায়ক হারও আমাদের হজম করতে হয়েছে, তবুও এই সময়টা আমার জীবনের অত্যন্ত বিশেষ এক অধ্যায়-যা আমাকে সারাজীবন অনুপ্রাণিত করবে।’









