এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিলে তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার পাশাপাশি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পুরস্কার দেওয়ার কথা জানিয়েছে বাহিনীটি। একই সঙ্গে পরিস্থিতির কারণে কেউ অস্ত্র নিয়ে থাকলে তা ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত বিষয় বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এ জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ও এসআরবির পক্ষ থেকে বিশেষ কার্যক্রম চলছে। বাংলাদেশ পুলিশ, সেনাবাহিনী ও এসআরবির বিভিন্ন অভিযানে এরই মধ্যে নানা ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অবশিষ্ট অস্ত্রগুলো উদ্ধারে মানুষের কাছ থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।
খুলনা-রাজশাহী-চট্টগ্রামেও অস্ত্রের তথ্য
এসআরবির এই কর্মকর্তা বলেন, খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য রয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো শনাক্ত করে উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, “যার কাছে এ ধরনের অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য আছে, তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য অনুরোধ করছি।”
তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো ব্যক্তি হয়তো কোনো ঘটনার সময় থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র নিয়ে গেছেন। তাদের সবার উদ্দেশ্য যে অপরাধমূলক, এমনটি ধরে নেওয়া হচ্ছে না। কেউ পরিস্থিতির কারণে বা তাৎক্ষণিকভাবে অস্ত্র নিয়ে যাওয়ার পর এখন কী করবেন, তা বুঝতে না পেরে থাকতে পারেন। আবার আইনি প্রক্রিয়ার কথা চিন্তা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতেও ভয় পেতে পারেন।
‘অস্ত্রের জায়গা জানান, আমরা গিয়ে নিয়ে আসব’
এই পরিস্থিতিতে অস্ত্র উদ্ধারে একটি সহজ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে এসআরবি।
উইং কমান্ডার এ জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, “আপনারা অস্ত্রগুলো যেকোনো একটি জায়গায় রেখে আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন। ওই জায়গায় দুটি পিস্তল, একটি রাইফেল, ১০টি ম্যাগাজিন বা গুলি আছে—এতটুকু তথ্যই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আমরা গিয়ে সেগুলো সংগ্রহ করে নিয়ে আসব।”
তিনি জানান, তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং সরকারিভাবে পুরস্কার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অস্ত্র উদ্ধারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি পরিস্থিতি ও প্রাসঙ্গিকতার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
মোহাম্মদপুরে বাড়ানো হচ্ছে অভিযান
সাংবাদিকদের প্রশ্নে মোহাম্মদপুরের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন এসআরবির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক।
তিনি বলেন, কোনো এলাকার অপরাধপ্রবণতা কমিয়ে আনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। এক রাতের মধ্যে একটি এলাকার পরিস্থিতির পুরো পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে যেসব এলাকায় অপরাধের প্রবণতা বেশি, সেসব এলাকায় এসআরবির কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, অপরাধপ্রবণ এলাকায় এসআরবি সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। অভিযান পরিচালনার জন্য কর্মকর্তার সংখ্যা বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার এবং সাইবার মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে যত ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, সেগুলো নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন আকারের অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিদিনই সাফল্য আসছে। এসব অভিযানের তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে।
মোহাম্মদপুর থেকে অপরাধ নির্মূলের বিষয়ে আশাবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “আরেকটু অপেক্ষা করার জন্য আমাদের সহযোগিতা করুন। পুলিশ বাহিনীসহ যতগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে, সবাইকে সহযোগিতা করুন। ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগিরই মোহাম্মদপুর থেকে সমস্ত অপরাধ নির্মূল করতে আমরা সক্ষম হবো।”









