এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
রিজিক বলতে শুধু অর্থ-সম্পদ বোঝায় না। সুস্থতা, পরিবার, জ্ঞান, সময়, শান্তি—জীবনের নানা নিয়ামতও রিজিকের অন্তর্ভুক্ত। ইসলামে হালাল উপার্জনের পাশাপাশি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা, ইবাদত ও সৎকর্মের মাধ্যমে জীবনে বরকত লাভের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তাকওয়া অবলম্বন করা
কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন এবং তাকে রিজিক দেন এমন উৎস থেকে, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।’— সূরা আত-তালাক, ৬৫:২-৩। তাই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান মেনে চলার চেষ্টা করা একজন মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ইস্তিগফার করা
আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া বা ইস্তিগফার করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ আমল। সূরা নূহে হজরত নূহ (আ.) তাঁর জাতিকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে আহ্বান করেছিলেন এবং এর সঙ্গে বৃষ্টি, সম্পদ ও সন্তান বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
কৃতজ্ঞ থাকা
আল্লাহর নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা মুমিনের অন্যতম গুণ। কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা কৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমি তোমাদের আরও দেব।’ — সূরা ইবরাহিম, ১৪:৭। অল্পের জন্যও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করার অভ্যাস মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে।
আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা
ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাদিসে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার সঙ্গে রিজিক প্রশস্ত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তাই শুধু অর্থ উপার্জনের চেষ্টা নয়, পরিবার ও আত্মীয়দের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক রাখাও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
হালাল উপার্জন
রিজিকে বরকতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের সীমা মেনে চলা। অন্যের অধিকার নষ্ট করে বা প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ বেশি হলেও তাতে প্রকৃত বরকত থাকে না। তাই উপার্জনের পরিমাণের পাশাপাশি তার উৎসও গুরুত্বপূর্ণ।
দোয়া ও আল্লাহর ওপর ভরসা
মানুষ চেষ্টা করবে, নিজের দায়িত্ব পালন করবে এবং একই সঙ্গে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইবে। রিজিকের মালিক আল্লাহ এই বিশ্বাস একজন মুমিনকে হতাশ না হয়ে বৈধ পথে চেষ্টা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করে।
রিজিকের জন্য চেষ্টা করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা। হালাল উপার্জন, ইস্তিগফার, কৃতজ্ঞতা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা এবং নিয়মিত দোয়া—এসব আমল একজন মুসলমানের জীবনে বরকত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথ হতে পারে।









