ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মা হীরাবেন মোদির জন্মদিন উপলক্ষে শনিবার গুজরাটের গান্ধীনগরে তার সঙ্গে দেখা করেছেন। মায়ের জন্মদিনে মোদি মায়ের কাছে আর্শীবাদ চেয়ে তার পা ধুয়ে দিয়েছেন।
১৯২৩ সালের ১৮ জুন জন্ম নেওয়া হীরাবেন মোদি ১০০তম বছরে পদার্পণ করেছেন।
মায়ের শততম জন্মদিনে এক ব্লগ পোস্ট মোদির, মা নিছক একটি শব্দ নয়। এক বিপুল আবেগের সূচক। ভালবাসা, ধৈর্য, বিশ্বাস এবং আরও অনেক কিছু। বিশ্ব জুড়ে, দেশ, কাল, ভুগোলের সীমা ছাড়িয়ে প্রতিটি শিশুর তার মায়ের প্রতি এক বিশেষ স্থান থাকে। মা শুধু তার শিশুকে জন্মই দেয় না, তাকে বড় করে তোলেন। নিজের পায়ে দাঁড়াতে শেখান। মনে আত্মবিশ্বাসে জোগান। আর তার জন্য মায়েদের অনেক আত্মত্যাগ করতে হয়।
ব্লগে প্রধানমন্ত্রী মোদি তার বাবার বন্ধুর ছেলে আব্বাসের কথা বলেছেন, আব্বাসের বাবা-মারা যাবার পর, কীভাবে তাদের বাড়িতে এসে তাদের সাথে থাকতেন তা বর্ণনা করেন।
মোদি তার অফিসিয়্যাল ব্লগে লিখেন, ‘‘মা অন্যের আনন্দে সুখ খুঁজে পেতেন। আমাদের বাড়ি ছোট হতে পারে, কিন্তু মা অত্যন্ত বড় মনের ছিলেন। আমার বাবার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু থাকতেন পাশের গ্রামে। তার অকাল মৃত্যুর পর আমার বাবা তার বন্ধুর ছেলে আব্বাসকে নিয়ে আসেন আমাদের বাড়িতে। তিনি আমাদের সাথেই থেকেছেন এবং পড়াশোনা শেষ করেছেন।’’
‘‘মা আব্বাসের প্রতি ততটা স্নেহশীল এবং যত্নশীল ছিলেন যেমনটি তিনি আমাদের সকল ভাইবোনের জন্য করেছিলেন। প্রতি বছর ঈদে তিনি আব্বাসের পছন্দের খাবার তৈরি করতেন। উৎসবগুলিতে, আশেপাশের বাচ্চাদের জন্য আমাদের বাড়িতে আসা এবং মায়ের বিশেষ উপভোগ করা সাধারণ ব্যাপার ছিল।’’
‘‘যখনই একজন সাধু আমাদের পাড়ায় যেতেন, মা তাদের আমাদের বাড়িতে খাবারের জন্য বিনীত আমন্ত্রণ জানাতেন। তিনি সাধুদের কাছে নিজের জন্য কিছু না চেয়ে আমাদের সন্তানদের আশীর্বাদ করার জন্য অনুরোধ করতেন। তিনি তাদের অনুরোধ করতেন, ‘আশীর্বাদ করুন। বাচ্চারা যাতে তারা অন্যের আনন্দে খুশি হয় এবং তাদের দুঃখে সহানুভূতিশীল হয়। তাদের ভক্তি (ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি) এবং সেবাভাব (অন্যদের সেবা) থাকতে দিন।’’
এ দিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মায়ের জন্মদিন উপলক্ষে মোদির নিজের শহর ভাদনগরে সারাদিন ধরে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
এ ছাড়াও আহমেদাবাদের জগন্নাথ মন্দিরে মোদির পরিবার সাধারণ গরিব মানুষকে খাওয়ানোর পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছেন।









