কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া নিষেধাজ্ঞাকে বেআইনি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। আদালত বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে সরকারের সমালোচনা করায় কোনো প্রতিষ্ঠানকে শাস্তি বা প্রতিশোধের মুখে ঠেলে দেওয়ার সুযোগ নেই।
এএফপি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দেওয়া ৫৯ পৃষ্ঠার রায়ে বিচারক রিটা লিন বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলে ‘ফাঁকা যুক্তি’ দেখিয়ে সরকারি সমালোচকদের শাস্তি দেওয়ার অবাধ ক্ষমতা সরকারের থাকতে পারে না। তিনি অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে নেওয়া নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না করার জন্য সংশ্লিষ্ট ফেডারেল সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন।
একই সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের অ্যানথ্রোপিককে ‘সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্তও বাতিল করেছেন বিচারক। এর আগে এ ধরনের ঘোষণা মূলত বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো। মার্চে দেওয়া বিচারকের সাময়িক নিষেধাজ্ঞাকে বৃহস্পতিবারের রায়ের মাধ্যমে স্থায়ী করা হয়েছে। একই সঙ্গে রায়টি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন সরকার চাইলে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবে।
অ্যানথ্রোপিকের এক মুখপাত্র আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠানটিকে ‘সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত বেআইনি ছিল। জাতীয় নিরাপত্তায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। অ্যানথ্রোপিকের তৈরি ‘ক্লড’ এআই মডেলের ব্যবহার নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে পেন্টাগনের বিরোধের সূত্রপাত। মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ক্লড ব্যবহার করে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় প্রাণঘাতী অস্ত্র পরিচালনা কিংবা আমেরিকান নাগরিকদের ব্যাপক নজরদারির অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায় অ্যানথ্রোপিক।
এর পর প্রতিষ্ঠানটির ওপর ক্ষুব্ধ হন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফেব্রুয়ারিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যানথ্রোপিককে ‘চরম বামপন্থী’ ও ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পেছনে কোনো প্রকৃত নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলার উদ্দেশ্য ছিল না। বরং সরকারের সমালোচনা করায় প্রতিষ্ঠানটিকে দৃষ্টান্তমূলকভাবে শাস্তি দেওয়ার প্রবণতা থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
মার্কিন সামরিক বাহিনী বিভিন্ন গোপনীয় ও স্পর্শকাতর কাজে ক্লড এআই ব্যবহার করছিল। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার মার্কিন অভিযানের সময়ও ক্লড ব্যবহার করা হয়েছিল। মার্চে অ্যানথ্রোপিককে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করার পর প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সামরিক চুক্তি বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে পেন্টাগনের অন্যান্য ঠিকাদারকেও অ্যানথ্রোপিকের প্রযুক্তি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
তবে বৃহস্পতিবারের রায়কে অ্যানথ্রোপিকের পূর্ণ বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে না। একই দিনে পেন্টাগন সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত বিধিমালার আওতায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আরেকটি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, যা এখনো বহাল রয়েছে। এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের আরেকটি আদালতে মামলা চলছে। এপ্রিলে ওই আদালতের বিচারক নিষেধাজ্ঞাটি স্থগিত করার আবেদন নাকচ করেছিলেন।









