২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান (এসবিপি)।
আজ (৩ জুলাই) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জিও নিউজ জানিয়েছে, ৩০ জুন পর্যন্ত এসবিপির রিজার্ভ ৫ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলারে, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত ১৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য অতিক্রম করেছে।
গত বছরের একই সময়ে এসবিপির রিজার্ভ ছিল ৯ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার। এসবিপি জানিয়েছে, দেশের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্সে উন্নতি এবং পরিকল্পিত বৈদেশিক অর্থপ্রবাহ অর্জনের ফলেই এই বৃদ্ধি ঘটেছে। যদিও এসবিপি এ বছর রিজার্ভে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বৃদ্ধির বিস্তারিত কারণ জানায়নি, তবে এক সপ্তাহ আগে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ব্যাংকটি ৩ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্যিক ঋণ এবং ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বহুপাক্ষিক ঋণ পেয়েছে।
একই সময়ে, ২০ জুনে শেষ হওয়া সপ্তাহে এসবিপির রিজার্ভ ২ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার কমে যায়, যা দেশটির ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক পতন। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, চীন সম্প্রতি পাকিস্তানের ৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ পুনঃনবীকরণ করেছে। এর মধ্যে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের একটি বাণিজ্যিক ঋণ, যা পাকিস্তান দুই মাস আগে পরিশোধ করেছিল, আবারও রিফাইন্যান্স করা হয়েছে। বাকি ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার তিন বছর যাবত এসবিপির রিজার্ভে ছিল, যা পুনরায় রোলওভার করা হয়েছে।
পাকিস্তানের একেডি সিকিউরিটিজ লিমিটেড-এর গবেষণা পরিচালক আওয়াইস আশরাফ বলেন, এই রিজার্ভ স্তরের মাধ্যমে পাকিস্তান আইএমএফের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেছে। এটি এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। বর্তমান রিজার্ভ দেশের আড়াই মাসের আমদানি কাভার করতে সক্ষম। আমরা আশা করি, ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে রিজার্ভ ১৭ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে, যা রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পাশাপাশি সুদের পরিমাণ হ্রাসের ফলাফল হবে।
দুই বছর আগে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এতটাই কমে গিয়েছিল যে তা এক মাসের আমদানিও কাভার করতে পারছিল না। তখন সরকার ৩ বিলিয়ন ডলারের স্বল্পমেয়াদি আইএমএফ বেইলআউট নেয় এবং আমদানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে ও মুদ্রার বিনিময় হার আরও নমনীয় করে তোলে।









