এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
যুক্তরাজ্যে এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বুধবারও ফ্লাইট চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় এরই মধ্যে ২ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং আরও কয়েক দিন এই পরিস্থিতি চলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিমান চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ১ হাজার ৭৫০টি ফ্লাইট বাতিলের পর বুধবার আরও ২৯১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে কয়েক হাজার যাত্রীর ভ্রমণসূচি ব্যাহত হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ন্যাটস জানিয়েছে, তাদের ফ্লাইট ডেটা প্রসেসিং সিস্টেমে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান মার্টিন রলফে যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, সমস্যা সমাধানে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় লেগেছে। এ ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
পররাষ্ট্রসচিব এড মিলিব্যান্ড ঘটনাটিকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার ন্যাটসের প্রধানকে তলব করে ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
গত তিন বছরের মধ্যে এটি ন্যাটসের তৃতীয় বড় প্রযুক্তিগত সমস্যা। ২০২৩ সালে আগস্টের ব্যাংক হলিডে উইকেন্ডে কম্পিউটার বিভ্রাটের কারণে প্রায় ৭ লাখ যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছিলেন। ২০২৫ সালেও ন্যাটসের আরেকটি তুলনামূলক ছোটখাটো বিভ্রাটে ১৫০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল।
ফ্লাইটরাডারের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে রয়েছে হিথ্রো, গ্যাটউইক, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম।
ইউরোপের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর হিথ্রোতে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে উড্ডয়ন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পরে ফ্লাইট চলাচল শুরু হলেও বিকেলে আবারও সমস্যা দেখা দেয়।
বুধবার ম্যানচেস্টার, লুটন, স্ট্যানস্টেড, ব্রিস্টল ও বেলফাস্ট সিটি বিমানবন্দর জানিয়েছে, ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। তবে আগের দিনের সংকটের প্রভাব এখনো রয়েছে।
হিথ্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে বিমান ও ক্রুদের পুনর্বিন্যাস করতে সময় লাগায় ফ্লাইটে বিলম্ব অব্যাহত থাকতে পারে।
গ্যাটউইক বিমানবন্দরও জানিয়েছে, ফ্লাইট চলাচল শুরু হলেও পুরো কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে। আয়ারল্যান্ডের কয়েকটি বিমানবন্দরেও এই সংকটের প্রভাব পড়েছে।
ন্যাটসের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কয়েকটি এয়ারলাইন। রায়ানএয়ার ও উইজ এয়ার প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে বড় ধরনের সংস্কারের দাবি জানিয়েছে।
উইজ এয়ার ইউকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইভন ময়নিহান বলেছেন, ন্যাটসের প্রধানের দায়িত্বে থাকা মার্টিন রলফের পদে থাকা নিয়ে ভাবা উচিত।
তিনি বলেন, ‘যেকোনো পদে তিনবার ব্যর্থতা হলে তিনবারের নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব নিয়ে ভাবা উচিত।’
এদিকে যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইনের সঙ্গে ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে বিমানবন্দরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হিথ্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিশ্চিতভাবে ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে এমন যাত্রীদেরই বিমানবন্দরে যেতে হবে।
প্রযুক্তিগত ত্রুটি সমাধান হলেও বাতিল ও বিলম্বিত ফ্লাইটের জমে থাকা চাপের কারণে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।









