ঢাকার লালবাগ ও কামরাঙ্গীর চরের ইসলামবাগ এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ফেলা প্লাস্টিকসহ সব ধরনের বর্জ্য আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে এ নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশনায় নৌপরিবহন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ঢাকার জেলা প্রশাসক, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার এবং লালবাগ ও কামরাঙ্গীর চর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ১৩ জনকে বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনা বাস্তবায়নের পর চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১৯ আগস্ট ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে ভিত্তি করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) রিটটি করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বুড়িগঙ্গা দূষণ বন্ধে ২০১০ সালে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা থাকলেও ইসলামবাগ এলাকায় নদীর তীরে নিয়মিতভাবে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, এভাবে বর্জ্য ফেলা অব্যাহত থাকলে তা একপর্যায়ে নদীতে গিয়ে পড়তে পারে। এতে বুড়িগঙ্গার পানি আরও দূষিত হওয়ার পাশাপাশি আদালতের আগের নির্দেশনা বাস্তবায়নও বাধাগ্রস্ত হবে।
বুড়িগঙ্গা দূষণ বন্ধে ২০১০ সালে এইচআরপিবির করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট নদীর তীরে প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলা নিষিদ্ধসহ একাধিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল ও নাসরিন সুলতানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান।
মনজিল মোরশেদ বলেন, বুড়িগঙ্গার দূষণ ঢাকার পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। আগের আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ইসলামবাগে নদীর তীরে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলে রাখা হয়েছে, যা নদীতে গিয়ে দূষণ আরও বাড়াতে পারে।
এইচআরপিবির পক্ষে মোহাম্মদ সরওয়ার আহাদ চৌধুরী গত ৩০ আগস্ট রিট আবেদনটি করেন।









