জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলতে সাউথ আফ্রিকার যখন মাত্র ৩৭ রান দরকার, তখনো দলটির হাতে ছিল ৫ উইকেট। সহজ জয় পাওয়া যখন সময়ের ব্যাপার, ঠিক তখনই নিজেদের আবারো চোকার প্রমাণ করে প্রোটিয়ারা দ্রুত ৪ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে চলে যায়। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচটিতে শেষ পর্যন্ত এক উইকেটের জয় পেয়ে বিশ্বকাপের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে এখন টেম্বা বাভুমার দল।
বল হাতে উইকেটশূন্য থেকে অনুজ্জ্বল থাকলেও ব্যাট হাতে একদম শেষে ক্রিজে থেকে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন কেশব মহারাজ। ২১ বল খেলে ৭ রানের ক্ষুদ্র ইনিংসটি জয়ে রাখে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। মোহাম্মদ নেওয়াজের বলে ঠাণ্ডা মাথায় স্কয়ার লেগ দিয়ে চার মেরে দলকে জেতানোর পর উদযাপনের সময় মহারাজ নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি।
ম্যাচ শেষে ৩৩ বর্ষী ক্রিকেটার বলেন, ‘আমি মনে করি এটা অবাস্তব এক মুহূর্ত ছিল। আপনি সবসময় দেশের জন্য ম্যাচ জেতার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু বিশ্বকাপে ম্যাচ জেতা একদম বিশেষ কিছু। সেই মুহূর্তগুলো আপনি যত্নে আগলে রেখে টুর্নামেন্টে সামনের দিকে এগিয়ে যান।’
‘সত্যি বলতে আমার মাথায় তখন অনেক চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিল। আমি শুধু বল দেখছিলাম এবং সৌভাগ্যবশত আমি এমন একটি অবস্থানে ছিলাম যেখানে আমি ফিল্ডারদের ভেতর থেকে ফাঁক বের করে রান নিতে পারতাম।’
বিশ্বকাপে খেলাটাই মহারাজের জন্য ছিল সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। অ্যাকিলিস টেন্ডনের সমস্যা থেকে সেরে উঠতে সাধারণত নয় মাস সময় লাগে। সেখানে তিনি ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন। চার মেরে খেলা শেষ করে গর্জে ওঠার মতো উদযাপনটি যেন তার লড়াকু প্রত্যাবর্তনের প্রতীকী দৃশ্যই হয়ে রইল। আবেগের বহিঃপ্রকাশ নিয়ে কথা বলতে পিছপাও হননি বাঁহাতি এ স্পিনার।
‘এটি আমার জন্য সেই দারুণ মুহুর্তগুলোর মধ্যে একটি ছিল। আমি জানতাম, দলের জন্য জয় কত বড় ব্যাপার। সেই কারণেই আবেগটা অনেক বেশি ছিল।’
সাউথ আফ্রিকার ৯ উইকেট পড়ে যাওয়ার সময় জয়ের জন্য দরকার ছিল ২৭ বলে ১১ রান। শেষ ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে আসা তাবরাইজ শামসি চার রান করে মহারাজকে যোগ্য সঙ্গ দেন। হারতে বসা ম্যাচ জেতা নিয়ে টপ অর্ডার ব্যাটারদের রান করাটা জাজে লেগেছে বলে জানান মহারাজ।









