পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম টসে জিতে যখন ফিল্ডিং নিলেন, তখনই হয়তো নিউজিল্যান্ডের ভাগ্যে আঁকা হয়ে গেছে অদৃশ্য জয়ের তিলক। ম্যাচ অর্ধেক গড়ানোর পর ফলাফল কী হবে, সেটির আগাম বলা না গেলেও পাল্লাটা কিউইদের পক্ষে বেশ ভারি। আগে ব্যাট করে ওয়ানডে বিশ্বকাপের টানা দুইবারের ফাইনালিস্টরা স্কোরবোর্ডে তুলেছে ৬ উইকেটে ৪০১ রান।
শনিবার বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে চোট থেকে লম্বা সময় পর মাঠে ফিরে টস ভাগ্য কেন উইলিয়ামসনের সহায় হয়নি। সেটিই হয়তো নিউজিল্যান্ডের জন্য হয়েছে শাপে বর। উদ্বোধনী জুটিতে কিউইদের হয়ে ৬৮ রানের জুটি গড়েন ডেভন কনওয়ে ও রাচীন রবীন্দ্র। ১১তম ওভারে হাসান আলীর বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৩৯ বলে ৬ চারে ৩৫ রান করা কনওয়ে।
কেন উইলিয়ামসন ও রাচীন নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ১৮০ রান যোগ করে নিউজিল্যান্ডের বড় স্কোরের পথ সুগম করেন। চোট কাটিয়ে ফিরে দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিং করতে থাকা উইলিয়ামসনের সেঞ্চুরি পাওয়াটা ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার। যদিও নার্ভাস নাইন্টিজেই তাকে কাটা পড়তে হয়। ইফতিখার আহমেদের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়েই হয় সর্বনাশ। লং অফে ফখর জামানের হাতে ধরা পড়ার আগে ৭৯ বলে ১০ চার ও ২ ছক্কায় ৯৫ রানের চমৎকার ইনিংস ব্ল্যাক ক্যাপস অধিনায়ক।
উইলিয়ামসন না পারলেও রাচীন ঠিকই সেঞ্চুরির দেখা পান। ৯৪ বলে ১৫ চার ও এক ছক্কায় খেলেন ১০৮ রানের নান্দনিক ইনিংস। মোহাম্মাদ ওয়াসিমের বলে সৌদ শাকিলের তালুবন্দি হন।
আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকা নিউজিল্যান্ড ৪০ ওভারের আগেই দলীয় ৩০০ রানের গণ্ডি পার হয়। দ্রুত রান তোলায় মনযোগী থাকা মিচেল ১৮ বলে ৪টি চার ও এক ছক্কায় ২৯ রান করেন। হারিস রউফের বলে বোল্ড হওয়ার আগে মার্ক চ্যাম্পম্যানের সঙ্গে তিনি চতুর্থ উইকেটে ৫৭ রানের জুটি গড়েন।
চ্যাম্পম্যানও বাইশ গজে আগ্রাসী ভঙ্গিতে ব্যাট চালাচ্ছিলেন। ২৭ বলে ৭ চারে ৩৯ রান করার পর মোহাম্মাদ ওয়াসিমের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন।
এরপর ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন গ্লেন ফিলিপস। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে থাকেন মিচেল স্যান্টনার। দ্রুতগতিতে এ দুই ব্যাটার ষষ্ঠ উইকেটে ৪৩ রান যোগ করে দলীয় স্কোর চারশোর কাছাকাছি নিয়ে যান। ৪৯তম ওভারে ওয়াসিমের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ২৫ বলে ৪টি চার ও ২ ছক্কায় ৪১ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন ফিলিপস।
স্যান্টনার ১৭ বলে ২৬ ও আট নম্বরে নামা উইকেটরক্ষক ব্যাটার টম ল্যাথাম ২ রানে অপরাজিত থাকেন।
পাকিস্তানের পক্ষে ওয়াসিম ৬০ রান খরচায় নেন ৩ উইকেট। একটি করে উইকেন নেন হাসান, হারিস ও ইফতিখার।









