এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে নর্থ কোরিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের মর্যাদা থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা সম্প্রতি নর্থ কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির সমালোচনা করে একটি প্রস্তাব পাস করে। এর জবাবে নর্থ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশটির পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের অবস্থান অপরিবর্তনীয়।
শনিবার নর্থ কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতার কারণেই এই অবস্থান অটুট থাকবে।
অন্য এক বিবৃতিতে আইএইএর বিরুদ্ধে দ্বৈত নীতির অভিযোগ তুলেছেন নর্থ কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং।
কিম ইয়ো জং বলেন, আইএইএ পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি ও দ্বৈত নীতিই আন্তর্জাতিক পারমাণবিক বিস্তার রোধব্যবস্থা ভেঙে পড়ার প্রধান কারণ।
কিম ইয়ো জংয়ের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বিস্তার এবং সাউথ কোরিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিন আনার পরিকল্পনার বিষয়ে আইএইএ নীরব রয়েছে। অথচ উত্তর কোরিয়ার আত্মরক্ষামূলক ও বৈধ পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জোর করে প্রস্তাব পাস করেছে সংস্থাটি।
এদিকে, আইএইএর চলতি সাধারণ সম্মেলনে নর্থ কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর তৈরি করা এই প্রস্তাব উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রের অবস্থানে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
এদিকে চলতি সপ্তাহে তিন দিনের সফরে নর্থ কোরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র কারখানাগুলো পরিদর্শন করেছেন কিম জং উন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালে রাশিয়া ও নর্থ কোরিয়ার মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের পর মস্কোর সহায়তায় নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ঢেলে সাজাচ্ছে পিয়ংইয়ং।
ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের অংশগ্রহণের ফলে অর্জিত যুদ্ধের অভিজ্ঞতাও দেশটির সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন তারা।
শুক্রবার পিয়ংইয়ংয়ে প্রচারকর্মীদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতেও বক্তব্য দেন কিম জং উন। তিনি বলেন, আধুনিক আদর্শিক যুদ্ধে পুরোনো পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি না করে উদ্ভাবনী, সৃজনশীল ও আক্রমণাত্মক হতে হবে।
ট্রাম্পের সমঝোতার উদ্যোগ
কিম ইয়ো জং যখন যুক্তরাষ্ট্র ও সাউথ কোরিয়ার বিরুদ্ধে দ্বৈত নীতির অভিযোগ তুলেছেন, তখন দুই দেশই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের আগ্রহের কথা জানিয়েছে।
শুক্রবার সাউথ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নর্থ কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপ চান। সম্ভাব্য আলোচনার পথ তৈরি করতে সিউল কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
প্রথম মেয়াদে কিম জং উনের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে চান ট্রাম্প। গত মাসে তিনি বলেন, চলতি বছরের শেষ দিকে নর্থ কোরিয়ার নেতার সঙ্গে তার বৈঠক হতে পারে।
ট্রাম্প আরও বলেন, কিমের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তার দাবি, নর্থ কোরিয়ার কাছে এখন ৫৭টি অত্যন্ত শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।









