এক পেনাল্টি নেওয়া-না নেওয়া নিয়ে কতকিছুই ঘটে গেল! নেইমার-এমবাপের দ্বন্দ ছাপিয়ে সেই বিতর্ক গিয়ে ঠেকেছিল লিওনেল মেসিতেও। দর্শক-সমর্থক থেকে সাবেক-বর্তমান তারকা হয়ে ফুটবল বোদ্ধারা— সবাই মেতে উঠেছিল চুলচেরা বিশ্লেষণে। কিন্তু ডানপালা গজানো ‘পেনাল্টি’ বিতর্ককে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন পিএসজি কোচ ক্রিস্তোফার গালতিয়ের।
ফ্রান্স চ্যাম্পিয়নদের নতুন বস এমবাপে-নেইমারের কাণ্ডকে সহজভাবেই নিয়েছেন। যেই পেনাল্টি নেওয়া নিয়ে এত বিতর্ক, স্বভাবতই সেখানে প্রশ্ন উঠেছে পরেরবার পিএসজি পেনাল্টি পেলে তখন কি হবে—কে নেবেন পেনাল্টি কিক?— গালতিয়ের উত্তর দিয়েছেন আঙুলের কর গুণে। জানিয়েছেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হবে পেনাল্টি শুটারের নাম। সেটা হতে পারে নেইমার, এমবাপে কিংবা মেসি।
‘পেনাল্টি নেওয়ার বিষয়টি ক্রমবিকাশের মাধ্যমে হতে পারে। সেই মুহূর্তে মাঠে কে আছেন তার উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত আসবে। মন্টেপিলিয়ের বিপক্ষে ম্যাচটিতে সুনির্দিষ্ট ক্রম ছিল। পেনাল্টি নিতে এক নম্বরে থাকবেন এমবাপে, দুই নম্বর শুটার থাকবেন নেইমার। সেটাই ঘটেছিল।’— বলেছেন গালতিয়ের। অর্থাৎ, প্রথম এবং একমাত্র পেনাল্টি হলে সেটা এমবাপেই নিবেন।
লিগ ওয়ান জায়ান্ট ক্লাবে নেইমার-এমবাপের বিতর্ক অবশ্য পুরোনো। গত চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে বাদ পড়ার পর যা অঙ্কুরিত হয়, সেই বিতর্কের ডালপালা দৈর্ঘ্যে-প্রস্থে ছড়িয়ে গড়িয়েছে বহুদূর। ক্লাবে চুক্তি বাড়িয়ে ক্ষমতাশালী হওয়া ফ্রেঞ্চম্যান এমবাপের লাল তালিকায় ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমার আছেন, এমন খবর ছড়িয়েছিল। নেইমারকে পছন্দ করেন না এবং ক্লাবেও তিনি থাকুন চান না এমবাপে— ফ্রেঞ্চ মিডিয়া প্রচার করেছিল সেসব খবর। যদিও শেষ পর্যন্ত সবকিছু মিইয়ে গেছে। একসঙ্গে প্রাক-মৌসুমের পর লিগের ম্যাচেও খেলে ফেলেছেন দুজন। এমন সময়ে পিএসজির চিন্তার পালে হাওয়া দিয়েছিল ‘পেনাল্টি কাণ্ড’।
লিলের বিপক্ষে লিগ ওয়ানের ম্যাচের আগে অনেকটা ফুরফুরে ছিলেন পিএসজি বস গালতিয়ের। পেনাল্টি নেওয়া না নেওয়া নিয়ে যে কাণ্ড মন্টেপিলিয়েরের ম্যাচে হয়েছিল সেটিকে স্রেফ ‘বিনিময়’ ভাবছেন এই ফরাসি, ‘সবকিছু ঠিক আছে, কোনো সমস্যা নেই। ম্যাচের পরের দিনেই দুজনের সঙ্গে বসেছিলাম এবং ওদের দুজনকে যা বলার ছিল বলে দিয়েছি। সেই জন্য এই ইস্যুতে কোনো অস্থিরতা নেই।’
গালতিয়ের বলেছেন, ক্লাবের সব ঠিক আছে, অনুশীলনেও খেলোয়াড়রা বেশ মনোযোগী। কিন্তু ফ্রেঞ্চ মিডিয়া বলছে ভিন্ন কথা। বল পাস পাননি বলে এমবাপের দাড়িয়ে পড়া, মেসির গায়ে ধাক্কা লাগলেও নির্বিকার থাকা, পেনাল্টিতে নেইমার গোল করলেও উদযাপনে অংশ না নেওয়া সহ ফ্রেঞ্চতারকার আরও অনেক কাণ্ড উত্তপ্ত করে রেখেছে ফুটবল বিশ্বকে। এমবাপের ঔদ্ধত্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারও কম যাননি। এমবাপেকে সমালোচনা করা একাধিক টুইটে লাইক দিয়ে উস্কে দিয়েছে দ্বন্দের আগুন।
তবে পিএসজি বসের কাছে নেইমার-এমবাপের পেনাল্টি নেওয়াটি ছিল স্রেফ সমঝোতার ভিত্তিতে ‘ভাগাভাগি’ ছাড়া অন্য কিছুই না, ‘ম্যাচে যদি দ্বিতীয় পেনাল্টির সুযোগ আসে, তখন আমরা কাউকে সেটা নিতে আদেশ করলে তার পেছনেও ব্যাখা থাকে। মন্টেপিলিয়েরের বিপক্ষে দ্বিতীয় পেনাল্টি নেওয়ার সময়ও কিচ্ছু ঘটেনি, এটা খুব অল্প সময়ের আলোচনা, অদল-বদল এবং নেইমার এবং এমবাপের মাঝে আলোচনা ছিল। সেই মুহূর্তে নেইমার ভেবেছিলেন তিনি পেনাল্টি নিলে ভালো হবে, কাইলিয়ানও তাকে পেনাল্টি নিতে দিয়েছেন।’
মন্টেপিলিয়েরের বিপক্ষে লিগে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচটি ৫-২ গোলে জয় পেয়েছিল পিএসজি। ম্যাচে গোলশূন্য ড্র থাকা সময়ে ২৩ মিনিটে পেনাল্টি পায় দলটি এবং সেখানে মেসি-নেইমার থাকতেও শট নেন এমবাপে এবং বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন। পরের বার আবার পেনাল্টি পেলে নেইমার নিজেই নিতে চান। শট নেন, গোল করেন এবং ইঙ্গিতপূর্ণ উদযাপনে মাতেন। টিভি ক্যামেরাতে দেখা যায় পিএসজির এগিয়ে যাওয়ায়ও সেখানে নির্বিকার ছিলেন এমবাপে।
ঝামেলাটা সেখান থেকেই শুরু, পরে নেইমার-এমবাপে বিতর্ক এতদূর গড়িয়েছে যে কোচ গালতিয়েরকে প্রেস কনফারেন্সে নিশ্চিত করতে হয়েছে, ‘কিছুই হয়নি।’ যদিও সেখানেও থাকছে বড় প্রশ্ন, আসলেই নেইমার-এমবাপের ‘পেনাল্টি’ ইস্যুতে কিছুই হয়নি!









