সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিনকে চিঠি পাঠিয়েছে কলকাতার সিআইডি।মরদেহের খণ্ডাংশ উদ্ধারের ঘটনায় ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) টেস্টের নমুনা দিতে কলকাতার সিআইডি চিঠি পাঠিয়েছে ডরিনকে। শিগগির কলকাতায় যাবেন তিনি।
শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক মানববন্ধনে প্রশ্নের উত্তরে এ তথ্য জানান এমপি কন্যা মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন।
তিনি বলেন, যাদের ডিএনএ টেস্টের নমুনা দিতে যাবো তাদেরকে চিঠি পাঠিয়েছে কলকাতার সিআইডি। চিঠিটি বাংলাদেশে এসেছে। আমি আর আমার চাচা খুব শিগগিরই কলকাতায় যাবো।
অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোনো দ্বন্দ্বের কারণে না অন্য কোনো ইস্যুতে এমন হত্যাকাণ্ড এমন প্রশ্নের জবাবে ডরিন বলেন, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল তো অবশ্যই আছে। ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। তারা কেন গ্রেপ্তার হলো?
এর আগে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনাকারী অর্থ যোগানদাতা ও হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন’ করেন কালীগঞ্জ উপজেলার জনপ্রতিনিধিরা।
মানববন্ধনে ডরিন বলেন, আমার বাবার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের প্রত্যেকের ফাঁসি চাই। আমার বাবাকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে সেটি পৃথিবীর ইতিহাসে নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড। আমার বয়স পর্যন্ত এমন নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ড দেখিনি। হত্যার মূল পরিকল্পনারী, অর্থের যোগদাতা ও তথ্য গোপনকারীসহ বাবার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।
এমপি কন্যা বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছিলাম। প্রধানমন্ত্রী আমার সঙ্গে আছেন। তিনি আমার একমাত্র অভিভাবক। তিনি আমাকে বলেছেন, ‘তদন্ত তদন্তের মতো হবে। সকলের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর উপর আস্থা রাখি, আমার একমাত্র অভিভাবক, মমতাময়ী মা, প্রধানমন্ত্রী এই হত্যার বিচার করবেন। কারণ বাবা হারানোর কষ্ট তিনি আমার চাইতে ভালো জানেন।
তিনি বলেন, কিলিং মিশনে থাকা সাতজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এখন পর্যন্ত আক্তারুজ্জামান শাহীন পলাতক রয়েছেন। তাকে ফেরাতে ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের দুজন নেতার কথা শুনেছি তারা গ্রেপ্তার হয়েছেন। ইতোমধ্যে যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন যথেষ্ট তদন্ত সাপেক্ষে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মানববন্ধনে ডরিন আরও বলেন, মূল কিলার শিমুল ভূঁইয়া ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে আদালতকে সাইদুল করিম মিন্টু ও গ্যাস বাবুর কথা বলেছেন। এই গ্যাস বাবুও আদালতে গিয়ে মিন্টুর কথা বলেছেন। তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। সাইদুল করিম মিন্টু ও গ্যাস বাবু আমাকে সান্ত্বনা দিতে এসেছিলেন। কিন্তু তারা আমার বাবার হত্যার তথ্য গোপন করেছিলেন। তথ্য গোপন করাও এক ধরনের অপরাধ। আলামত নষ্ট করা হয়েছে। এটিও অপরাধ।









