ময়মনসিংহ শহরের আমপট্টি এখন মুকুলের চায়ের জন্য সুপরিচিত! সে আমপট্টি মোড়ে শ্রী ধীরেশ চন্দ্র দেব বাবুর ‘রায় এন্ড সন্স মেডিকেল হল।’ সেখানেই চেম্বার করতেন বিলাত ফেরত ডাঃ মন্মথ রায় এবং ডাঃ রবীন্দ্র নাথ সেনগুপ্ত, যিনি ‘ডাঃ রবি সেন’ নামেই সবার কাছে পরিচিত।
অসুস্থ হলেই বাবার গন্তব্য ছিল রবি সেন কাকুর চেম্বার। ভয়ে আমার কুঁকড়ে যাওয়ার অবস্থা! ধুতি-পাঞ্জাবী পড়া, সুদর্শন, বিশালদেহী, ধমক-ধামক দেওয়ার ডাক্তার তিনি! তবে, রোগীর নিদান নিশ্চিত।
ওষুধের বোতলে কাগজের দাগকাটা রঙ্গিন মিকশ্চার খেয়ে কত অসুখ ভালো হয়েছে আমাদের, এমন কত্ত মানুষের! নাড়ি টিপে (পালসে চাপ দিয়ে) রোগীর অবস্থা বুঝতে পারতেন সে সময়কার চিকিৎসকেরা। এখন অবাক হই!
একবার বাবা আমাদের এক আত্মীয় রোগী নিয়ে গেছেন রবি সেন কাকুর কাছে। বাবা অনুরোধের সুরে ডাক্তার বাবুকে বললেন, দাদা, একটু ভালো করে ওষুধ দিয়েন। রসিক ডাক্তার রবি সেন বললেন, ‘এরম ওষুধ দিয়াম, হয় রোগ শেষ, নইলে রোগী শেষ’! কী ভয়ঙ্কর রসিকতা!
জীবনের শেষ সময়টা ভালো কাটেনি এই যশস্বী ডাক্তার বাবুর! ডাঃ রবি সেন ১৯৮৫ সালের দিকে বৃদ্ধ বয়সে ময়মনসিংহ ছেড়ে ছেলে-মেয়ের কাছে কলকাতায় চলে যান।
পরবর্তীতে যারা কলকাতায় গিয়ে ডাক্তার কাকুর সাথে দেখা করেছেন সবার কাছেই তিনি দেশের জন্য কেঁদেছেন! নিঃসঙ্গতা তাঁকে নিঃশেষ করে দিয়েছিল। আমপট্টির চেম্বার, পচাঁপুকুর পাড়ের বাড়ি, সমৃদ্ধ আড্ডা সব ‘মিস’ করতেন ভীষণ ভাবে। বাংলাদেশের মতো প্রাণ তিনি পাননি বিদেশ বিভুঁইয়ে!
শুনেছি, কালিবাড়ি রোডের হিতেন বোস, আমলাপাড়ার ‘স্নেহলতা লজের’ স্পোর্টসম্যান নির্মল নাগ। এছাড়াও আমাদের আরো পরিচিত প্রতিবেশী প্রায় সকলেই দেশ ছেড়ে গিয়ে খুব বেশি মনোকষ্ট পেতেন!
হয়তো পারিবারিক কারণে ডাঃ রবি সেনও গিয়েছিলেন। তার কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন সেখানেই। সমাপ্ত হয় এক বর্ণাঢ্য জীবনের।
(এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)









