ভয়াবহ বন্যায় নেপালের বিভিন্ন এলাকা যখন বিপর্যস্ত, তখন পানিতে ভেসে যাওয়া একটি টাকার সিন্দুক ঘিরে ঘটেছে চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা। সিন্দুকটি ভেঙে ভেতরের অর্থ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ২৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর রাসুয়া জেলার ভোতেকোশি এলাকায় বন্যার পানিতে সিন্দুকটি ভেসে যায়। পরে ধাদিং জেলার গালছি গ্রামীণ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেলখুখোলার কাছে ত্রিশূলী নদীর তীরে সেটি পাওয়া যায়।
ধাদিং পুলিশ জানায়, ১২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় কয়েকজন সিন্দুকটি ভেঙে ভেতরের টাকা নিয়ে গেছেন বলে খবর পাওয়া যায়। এরপর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়।
প্রাথমিক তল্লাশিতে ২৯ জনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৯২ লাখ ৬৮ হাজার ৫০৫ নেপালি রুপি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিদের বেশিরভাগই গালছি-৪ এলাকার মাস্টার এলাকার বাসিন্দা। এ ছাড়া গালছি-৬-এর আদমঘাট ও সিদ্ধালেক-৭-এর আদমতার বাসিন্দারাও রয়েছেন। আটক কয়েকজনের মূল বাড়ি চিতওয়ান ও পারসায় হলেও বর্তমানে তারা ধাদিংয়ে বসবাস করছেন।
উদ্ধার হওয়া অর্থের উৎস এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এদিকে বন্যাকে কেন্দ্র করে নেপালে আরও একটি চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা ঘটেছে। নারায়ণী নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়া এক নারীর মরদেহ থেকে সোনার কানের দুল চুরির অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি পুলিশের নজরে আসে। ভিডিওতে বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া এক নারীর মরদেহ থেকে দুই ব্যক্তিকে সোনার দুলের মতো কিছু খুলে নিতে দেখা যায় বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে ভয়াবহ বন্যায় নেপালে হতাহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে। শনিবার দেশটির দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৬২৬ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪২৬ জন।
ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির সর্বশেষ হিসাবে, শুক্রবার রাতে নিখোঁজ নেপালির সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯২৪ জন। নতুন হিসাবে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৫১৭ জনেই অপরিবর্তিত রয়েছে।
বন্যার তিন দিন পর হতাহতের এই সংশোধিত হিসাব প্রকাশ করা হলো। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এখনো নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলছে।









