বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলাকারী হিসেবে এজাহারনামীয় আসামি মো. শাকিল হোসেনকে অবৈধ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে ধানমণ্ডি থানা পুলিশ। শাকিল হোসেন ঢাকা উত্তর সিটির (ধানমণ্ডি) ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি।
গতকাল শনিবার রাজধানীর হাজারীবাগ থানা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামির বাসায় অভিযান পরিচালনা করে ১টি রিভলবার, ১টি পিস্তল, ১ রাউন্ড রিভলভারের গুলি ও ১ রাউন্ড ব্যবহৃত রিভলভারের গুলির খোসা, ২টি চাপাতি, ২টি বড় ছোরা, ১টি রামদা জব্দ করা হয়।
আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
তিনি বলেন, গত জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত ৪ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে ধানমণ্ডি থানার ২৭ নম্বর রোডে মিনা বাজারের সামনে ও আশপাশ এলাকায় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায়।
এতে সাহেদ আলীসহ (২৭) অনেক ছাত্র-জনতা গুলিবিদ্ধসহ গুরুতর আহত হয়। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর ভাই শরিফ ৩ সেপ্টেম্বর ধানমণ্ডি থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। ওই মামলায় শাকিল হোসেন এজাহারভুক্ত আসামি।
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় গ্রেপ্তার আসামি মো. শাকিল হোসেন একজন অস্ত্রধারী কুখ্যাত সন্ত্রাসী। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার মিছিলের ওপর অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে ধানমণ্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরিহ ছাত্র জনতাকে গুলি করেছেন।
মুহাম্মদ তালেবুর রহমান আরও বলেন, গত ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ধানমণ্ডি থানার আবাহনী মাঠের বিপরীত পাশে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায়। এতে হাসনাইন আহমেদ নিহত হয়। ওই ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। এ মামলাতেও মো. শাকিল হোসেন একজন এজাহারভুক্ত আসামি।
গ্রেপ্তার শাকিলকে রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।









