ময়মনসিংহের আওয়ামী লীগ রাজনীতির বটবৃক্ষ ও সিংহপুরুষ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় সাবেক ধর্মমন্ত্রী প্রয়াত অধ্যক্ষ মতিউর রহমানকে। বর্ষীয়ান এ নেতা চলতি বছরের আগস্টে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ১৯৫৮ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শতলে ভিড়িয়েছেন অসংখ্য মানুষকে। ছিলেন আওয়ামী লীগের দুই বারের সংসদ সদস্য।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেও জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন সমঝোতায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। প্রয়াত অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের রেখে যাওয়া সেই নৌকা এবার তার ছেলে মোহিত উর রহমান শান্তর হাতেই তুলে দেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। এরই মধ্যে মধ্যে তিনি তার নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছেন। তিনি সেখানে তার নির্বাচনী এলাকা নিয়ে আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।
নির্বাচনী এলাকা নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানিয়েছেন:আমাদের এই সদর আসনটি ময়মনসিংহ বিভাগেরও কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে গত ১৪ বছরে জেলায় কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামোসহ সব ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।
বিভাগীয় শহরের উন্নয়নে সিটি করপোরেশন প্রশাসনকেই মূখ্য ভূমিকা পালন করতে হয় এটাই নিয়ম। কিন্তু এই মহানগরের দ্বায়িত্ব যাদের উপর দেয়া হয়েছিল তাদের ব্যার্থতার কারণে ময়মনসিংহ সদরের বাসিন্দারা বেসিক নাগরিক সুবিধা থেকে এখনও বঞ্চিত। এই নগর তাদের সবকিছু দিলেও এখানকার মানুষ, মাটি তাদের আপন হয়ে উঠেনি কখনও। আর সে কারণেই দল আমাকে দ্বায়িত্ব দিয়েছে শেখ হাসিনার উন্নয়নকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেবার।
আমার স্বপ্ন এই ঐতিহ্যবাহী জনপদের হৃতগৌরব ফিরিয়ে আনা। জনগণের সমর্থন পেলে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব ময়মনসিংহকে স্মার্ট শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতে। এ ব্যাপারে আমার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য অপরিকল্পিত নগরায়ন রোধে কাজ করা। যানজট নিরসনে সড়কগুলো প্রশস্ত করা। ২০১৮ সালে গঠিত সিটি করপোরেশনের পুরনো ২১টি ওয়ার্ডের সঙ্গে যুক্ত শহরতলির আরো ১২টি ওয়ার্ডে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো।
এছাড়াও তার রয়েছে নানামুখী উন্নয়নের পরিকল্পনা। সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
যানজট নিরসনে নগরীতে সাতটি লেভেলক্রসিংকে বাইপাস করে দেওয়া। নগরের তিনটি মূল প্রবেশ পথে উড়াল সড়কের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া। ড্রেনেজ সিস্টেম এবং আবর্জনা ব্যবস্থাপনার জন্য সংস্লিষ্টদের সহযোগীতা নিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া। ময়মনসিংহবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি – ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল থেকে ১০০০ শয্যায় উন্নীত করা, পর্যটন বান্ধব শিল্প গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেওয়া। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রাশাসনিক সহযোগীতার ব্যবস্থা করা। কর্মসমস্থান বাড়াতে শিল্প-কারখানা গড়ে তুলতে কাজ করা, সদর আসনের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রাচীন ও মুক্তিযুদ্ধের নানা নিদর্শন এবং এতিহ্যগুলোকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া।
স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিজ নির্বাচনী এলাকা নিয়ে নিজের চিন্তাভাবনা তুলে ধরে মোহিত উর রহমান শান্ত জানান: তিনি একজন রাজনীতিবীদ। কিন্তু সবার আগে তিনি এই সদরের সন্তান। ময়মনসিংহ তার আবেগের নাম। তার স্বপ্ন এই ঐতিহ্যবাহী জনপদের হৃতগৌরব ফিরিয়ে আনা। আমি জানি এই কাজটি করা খুব একটা সহজ হবে না। আর সে কারনেই আমি মানুসের কাছে যাচ্ছি, তাদের বোঝাচ্ছি। তাদের সমর্থন পেলে তিনি সর্বোচ্চে চেষ্টা করবেন ময়মনসিংহকে স্মার্ট শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতে।









