সময় মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি। অর্থ বা সম্পদ হারিয়ে গেলে তা আবার অর্জন করা সম্ভব, কিন্তু চলে যাওয়া সময় আর ফিরে আসে না। ইসলাম তাই সময়ের সঠিক ব্যবহার, দায়িত্বশীল জীবনযাপন এবং ভালো কাজে মনোযোগ দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
১. সময়ের কসম করে আল্লাহর সতর্কবার্তা
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা সময়ের কসম করে বলেছেন,
“সময়ের কসম! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। তবে তারা নয়, যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে এবং পরস্পরকে সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।”
—সূরা আল-আসর, ১০৩:১–৩
এই সূরায় মানুষের জীবনে সময়ের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ঈমান ও সৎকাজের মাধ্যমে সময়কে কাজে লাগানোই সফলতার অন্যতম পথ।
২. অবসর সময়ের মূল্য বুঝতে হবে
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“দুটি নিয়ামতের ব্যাপারে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত—সুস্থতা ও অবসর সময়।”
—সহিহ বুখারি, ৬৪১২
অনেকেই সুস্থতা ও অবসর সময়কে স্থায়ী মনে করে অবহেলা করেন। কিন্তু সময় চলে যাওয়ার পর তার মূল্য উপলব্ধি করলেও তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় না।
৩. অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় অপচয় নয়
ইসলাম একজন মুমিনকে অর্থহীন ও অপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“কোনো ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্যের মধ্যে রয়েছে, সে এমন বিষয় পরিত্যাগ করে, যা তার জন্য প্রয়োজনীয় নয়।”
—জামে তিরমিজি, ২৩১৭
অতিরিক্ত পরচর্চা, অকারণ তর্ক, অহেতুক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কিংবা অন্যের ব্যক্তিগত বিষয়ে অযথা জড়িয়ে পড়া সময় অপচয়ের কারণ হতে পারে।
৪. প্রতিটি কাজের জবাবদিহি রয়েছে
কিয়ামতের দিন মানুষের জীবন কীভাবে অতিবাহিত হয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে। একটি হাদিসে এসেছে, কিয়ামতের দিন বান্দাকে তার জীবন কীভাবে কাটিয়েছে এবং তার জ্ঞান অনুযায়ী কী কাজ করেছে—এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে।
—জামে তিরমিজি, ২৪১৭
এই শিক্ষা মনে করিয়ে দেয়, সময় শুধু পার করে দিলেই হবে না; বরং তা কী কাজে ব্যয় করছি, সে বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
৫. সময়কে ভালো কাজে ব্যবহার করুন
সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর কিছু উপায় হলো—
নামাজ ও ইবাদতের জন্য সময় নির্ধারণ করা: দৈনন্দিন ব্যস্ততার মধ্যেও আল্লাহর স্মরণ ও ইবাদতের জন্য সময় রাখা।
অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ব্যবহার কমানো: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা বিনোদনের পেছনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করা।
জ্ঞান অর্জন করা: কোরআন পড়া, উপকারী বই পড়া এবং নতুন কিছু শেখার অভ্যাস গড়ে তোলা।
দৈনন্দিন কাজের পরিকল্পনা করা: গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো অগ্রাধিকার দিয়ে সময়মতো শেষ করার চেষ্টা করা।
নিজের হিসাব নেওয়া: দিনের শেষে কোন কাজে সময় ব্যয় হয়েছে, তা নিয়ে আত্মসমালোচনা করা।
সময় চলে যাওয়ার আগেই সচেতন হোন
সময় আল্লাহর দেওয়া একটি আমানত। তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে অর্থপূর্ণ করার চেষ্টা করা উচিত। বিনোদন বা বিশ্রাম জীবনের প্রয়োজনীয় অংশ হলেও তা যেন দায়িত্ব, ইবাদত ও গুরুত্বপূর্ণ কাজকে আড়াল না করে।
যে সময় চলে যাচ্ছে, তা আর ফিরে আসবে না। তাই আগামীকাল থেকে নয়, বরং আজ থেকেই সময়ের মূল্য বুঝে জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করা জরুরি।









