আগামী ২০-২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় হতে যাচ্ছে ‘১৩তম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো’। বিশ্বের ১৭টি দেশের শতাধিক প্রতিষ্ঠান এ শো-তে অংশ নেবে। ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স এসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা- ‘বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল’ এই মেলার আয়োজন করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ‘ফিশারিজ এন্ড লাইভস্টক জার্নালিস্ট ফোরাম’ আয়োজিত ‘বিল্ডিং এ রেজিলিয়েন্ট পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রি ইন বাংলাদেশ; ইভোল্যুশন, চ্যালেঞ্জেস এন্ড স্ট্র্যাটেজি’ শীর্ষক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়।
নতুন বিনিয়োগ এবং তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে এবং ডিম ও মুরগির মাংসের চাহিদা পূরণে এই মেলা সহায়ক হবে বলেও মনে করছে আয়োজকরা।
মেলা উপলক্ষ্যে কুড়িল বিশ্বরোডের তিনশ’ ফিট থেকে সারাদিন ফ্রি শাটল বাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মেলা চালু থাকবে। সবার জন্য উন্মুক্ত।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, আকস্মিক বন্যা, অতিবৃষ্টি, খরা, রোগ-জীবানুর সংক্রমণ এবং বাজারের অস্বাভাবিক উত্থান-পতনের কারণে ২০২৪ সাল ছিল পোল্ট্রি শিল্পের জন্য একটি দুর্যোগপূর্ণ বছর। অসংখ্য খামারি নিঃস্ব হয়েছেন। বেশ কয়েকটি বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানও তাদের ব্যবসা সংকুচিত করতে বাধ্য হয়েছেন।
ওয়াপসা-বাংলাদেশ শাখার সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, ২০৫০ সালকে সামনে রেখে একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে দেশীয় পোল্ট্রি শিল্প।
তিনি বলেন, শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। পোল্ট্রি শিল্প অসংখ্য বেকারের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। আগামী ১০ বছরে এ খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পোল্ট্রি শিল্প মূলত গ্রামাঞ্চলে গড়ে উঠেছে ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে গ্রাম থেকে শহরমুখী মানুষের ঢল কমবে।
মসিউর বলেন, স্বল্পতম সময়ে মানসম্মত প্রোটিন উৎপাদন করতে হলে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, খামার ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন ঘটাতে হবে এবং গবেষণা কাজে ব্যয় বৃদ্ধি করতে হবে। এজন্য সরকারকে পোল্ট্রি শিল্পের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব দ্রুত গতিতে বিস্তার লাভ করছে। নতুন কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব আমাদের ২০-৩০ বছর পিছিয়ে দিতে পারে। তাই রোগ-জীবানুর প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় আরও বেশি সচেতন হতে হবে এবং নিজ দেশেই প্রতিষেধক টিকা উৎপাদন করতে হবে।
সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়াপসা-বাংলাদেশ শাখার সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব কুমার প্রামাণিক। তিনি বলেন, স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে ডিমের মাথাপিছু বার্ষিক চাহিদা ছিল প্রায় ২০টি এবং মুরগির মাংসের এক কেজি। ২০২৪ সালে তা হয়েছে যথাক্রমে ১৩০টি এবং ১০ কেজি। পোল্ট্রি শিল্প ছাড়া এ প্রবৃদ্ধি সম্ভব ছিল না।
তিনি বলেন, ২০২০ সালের পর ফিডের উৎপাদন বেশ খানিকটা কমেছে। গত বছর উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে। আশাকরা যায়, চলতি বছরে আরও বাড়বে অর্থাৎ ডিম-মুরগির উৎপাদনও বাড়বে। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের তুলনায় বর্তমানে বাংলাদেশে ডিম ও মুরগির দাম কম। মুরগি পালনে কার্বন নিঃসরণও তুলনামূলকভাবে অনেক কম।
তিনি বলেন, সাসটেইনেবিলিটি অর্জনের পথে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলো সমাধানে আন্তরিক হতে হবে।
ব্রিডার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (বিএবি)-এর সভাপতি মাহাবুবুর রহমান বলেন, সম্প্রতি পোল্ট্রি ব্রিডিং ও জেনেটিক্স-এ যথেষ্ঠ অগ্রগতি হয়েছে। নতুন ব্রিডগুলোর মরটালিটি কম, প্রোডাকটিভিটি বেশি। এ মুরগির খাদ্য, পুষ্টি, চিকিৎসা, যত্ম সম্পর্কে খামারিদের জানতে হবে। আর তা জানাতে ব্রিড কোম্পানিগুলোর এক্সপার্টরা মেলায় উপস্থিত থাকবেন।
মাহাবুব বলেন, বিগত সরকারের আমলে খামারিদের লোকসান হলেও তা জোর গলায় বলার মত পরিস্থিতি ছিল না। সে সময় যারাই পোল্ট্রি এসোসিয়েশনের নেতৃত্বে সামনে এসেছিলেন- তাদের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এখনও অনেকগুলো মামলা নিষ্পত্তি হয়নি। এরকম পরিস্থিতি আমরা আর দেখতে চাই না।
মাহাবুব বলেন, সরকার ডিমের খুচরা মূল্য ১১ টাকা ৮৭ পয়সা নির্ধারণ করেছেন কিন্তু বাজারে বিক্রি হচ্ছে মাত্র সাড়ে ১০ টাকায়। সামনের রমজানে দাম আরও কমার সম্ভাবনা আছে। এ লোকসান সামাল দেয়া তৃণমূল খামারিদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তাদের সাহায্যার্থে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসতে হবে।
ফিড ইন্ডাষ্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, এবারের শো এর প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘সাসটেইনেবল পোল্ট্রি ফর ইমার্জিং বাংলাদেশ’। খামারি ও উদ্যোক্তাদের ঝরে পড়া ঠেকাতে হবে, পোল্ট্রি শিল্পকে টেকসই ও মজবুত ভিতের উপর দাঁড় করাতে হবে।
ফিআব এর সাবেক সভাপতি এহতেশাম বি. শাহজাহান বলেন, ফিডের পুষ্টিমান ও খরচ কমাতে বিভিন্ন বিকল্প কাঁচামাল বাজারে এসেছে। এন্টিবায়োটিক ফ্রি ফিড তৈরিতে এখন প্রিবায়োটিক ও প্রোবায়োটিক ব্যবহার হচ্ছে। নতুন নতুন প্রযুক্তি পণ্যের মান বাড়াতে এবং খরচ কমাতে সহায়ক হচ্ছে।
আরটিভির হেড অব নিউজ ইলিয়াস হোসেন, ডিবিসি নিউজের এডিটর লোটন একরাম, ফিশারিজ এন্ড লাইভস্টক জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি মুন্না রায়হানসহ অন্যরা এতে বক্তব্য রাখেন।









