মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল শুরু হতে আর দুই ঘন্টাও বাকি নেই। এরই মাঝে পাওয়া গেল অদ্ভুত এক খবর। ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ শুরুর আগে পিচ পাল্টে ফেলা হয়েছে।
গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের ৭ নম্বর পিচে খেলা হওয়ার কথা ছিল। চলতি বিশ্বকাপে এই পিচে হয়নি কোনো খেলা। আকস্মিকভাবে সেটির পরিবর্তে ৬ নম্বর পিচে খেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গত ২১ অক্টোবর সাউথ আফ্রিকা-ইংল্যান্ড ও ২ নভেম্বর ভারত-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ ৬ নম্বর পিচে হয়েছিল।
বিশ্বকাপের জন্য আইসিসির প্লেইং কন্ডিশন অনুযায়ী, গ্রাউন্ড অথরিটি যেকোনো ম্যাচের আগে পিচ নির্বাচন এবং প্রস্তুতির জন্য দায়ভার বহন করবে। সেক্ষেত্রে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে পিচের দায়ভার মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (এমসিএ) উপর পড়ে।
আইসিসির স্বাধীন পিচ পরামর্শদাতা হিসেবে নিযুক্ত আছেন অ্যান্ডি অ্যাটকিনসন। তিনি স্থানীয় গ্রাউন্ডস্টাফদের পাশাপাশি কাজ করেন।
ব্রিটিশ এক গণমাধ্যমের প্রকাশিত খবর অনুযায়ী অ্যাটকিনসন পুরো বিশ্বকাপজুড়ে পিচ নিয়ে হওয়া পরিকল্পনার পরিবর্তনের কারণে হতাশ হয়ে পড়েছেন। তার ফাঁস হওয়া ই-মেইল অনুসারে, ১৯ নভেম্বর আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচটি নির্ধারিত পিচে হবে কিনা, সেটি নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে। টিম ম্যানেজমেন্ট কিংবা স্বাগতিক দেশের বোর্ডের উচ্চ পর্যায়ের অনুরোধে নাকি বিশেষভাবে পিচ বেছে নিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে।
এদিকে ভারতীয় এক গণমাধ্যমের প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, পিচ যেন মন্থর থাকে সেই অনুরোধ স্বাগতিক দল জানিয়ে রেখেছে। টিম ম্যানেজমেন্ট নাকি বিসিসিআই কিউরেটরদের বেশিরভাগ ঘাস কেটে ফেলার জন্য বলেছে। মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (এমসিএ) একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত কয়েক বছরে ভারত ঘরের মাঠে ধীরগতির পিচে ভালো পারফর্ম করেছে। বিশ্বকাপের আগে টিম ম্যানেজমেন্ট তাদের ম্যাচগুলো ধীরগতির পিচে আয়োজনের জন্য অনুরোধ করেছিল।
ম্যাচের আগেরদিন মঙ্গলবার ভারতের হেড কোচ রাহুল দ্রাবিড় এবং অধিনায়ক রোহিত শর্মা পিচ পরিদর্শন করেন। টিম ম্যানেজমেন্ট গ্রাউন্ডস্টাফের সঙ্গে কথার মাঝে প্রশ্ন করেছিল যে, তারা অনুশীলন সেশনের পরে শিশির না থাকার জন্য রাসায়নিক স্প্রে করবে কিনা।
বিশ্বকাপে মুম্বাইয়ে এখন পর্যন্ত চারটি ম্যাচ হয়েছে। এর তিনটিতেই আগে ব্যাট করা দল জিতেছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের অতিমানবীয় ২০১ রানের অপরাজিত এক ইনিংসের সুবাদে রান তাড়ায় জয় পেয়েছে শুধু অস্ট্রেলিয়া। ফলে যে দল টসে জিতবে, তাদের ব্যাটিং বেছে নেয়ার সম্ভাবনাই বেশি। যদিও রোহিত শর্মা সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছিলেন, সেমিফাইনালের ফল নির্ধারণে টস কোনো বড় প্রভাব ফেলবে না।
বিসিসিআইয়ের স্থানীয় কিউরেটররা বিশ্বকাপ চলাকালীন পিচ দেখাশোনার জন্য একটি স্থানীয় সাংগঠনিক দল গঠন করে। আইসিসি প্রতিটি খেলার জন্য তাদের নিজস্ব বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন ভেন্যুতে পাঠিয়েছে।
আইসিসির প্লেইং কন্ডিশনে অবশ্য টুর্নামেন্টের নকআউট ম্যাচগুলো অবশ্যই অব্যবহৃত পিচে খেলা হওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। পিচ এবং আউটফিল্ড মনিটরিং প্রক্রিয়ার একমাত্র শর্তটি লেখা হয়েছে- ম্যাচ আয়োজনের বরাদ্দ করা ভেন্যুগুলোর দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সেই ম্যাচের জন্য সম্ভাব্য সেরা পিচ এবং আউটফিল্ডের পরিস্থিতি অনুযায়ী উপস্থাপন করবে।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ড এবং এজবাস্টনের ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচ দুটি অব্যবহৃত পিচে হয়েছিল। কিন্তু গত বছর অ্যাডিলেড ওভাল ও সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল দুটি ব্যবহৃত পিচে হয়।









