এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ইয়েমেনের ঐতিহাসিক ও কৌশলগত বন্দরনগরী মোকা বা আল-মাখার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইরানপন্থি হুতি বিদ্রোহীরা।
বৃহস্পতিবার শহরটি দখলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর চারটি সামরিক সূত্র।
এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালির ওপর হুতিদের প্রভাব আরও বাড়ল।
সরকারি সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, হুতিরা লোহিত সাগরের কৌশলগত হানিশ দ্বীপপুঞ্জেও হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্ররা দক্ষিণে ধুবাব এলাকায় সরে যাচ্ছে। বাব আল-মান্দাব প্রণালির ঠিক কাছে অবস্থিত ধুবাব। এর বিপরীতেই রয়েছে পেরিম দ্বীপ।
সামরিক সূত্রগুলোর মতে, ধুবাব ও পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইয়েমেনে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত তীব্র হয়েছে। ইরান যুদ্ধের মধ্যে এই সংঘাত নতুন একটি যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি করেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্যও হুমকি তৈরি করছে।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর কয়েক বছরের বড় ধরনের সংঘাত অনেকটাই থেমে যায়। তবে স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান না হওয়ায় সাম্প্রতিক লড়াই দেশটিকে আবার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
বাব আল-মান্দাবকে আরবিতে ‘অশ্রুর দ্বার’ বলা হয়। ইয়েমেন ও আফ্রিকার উপকূলীয় দেশ জিবুতি ও ইরিত্রিয়ার মাঝের এই সরু জলপথটি লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ। উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও জ্বালানি এই পথ দিয়ে সুয়েজ খাল হয়ে ইউরোপের বাজারে যায়। এশিয়াগামী বিভিন্ন পণ্যবাহী জাহাজের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।
ইরান ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বাব আল-মান্দাবও বন্ধ হয়ে গেলে উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর প্রধান নৌবাণিজ্যপথ আরও সংকুচিত হবে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।
এদিকে যুদ্ধ শুরুর পর উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলাও সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর মধ্যেই ইয়েমেনে হুতিদের নতুন অগ্রগতি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।









