এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে পুলিশের সালাম ও অভিবাদন সংক্রান্ত সাম্প্রতিক আদেশে আগের মতোই এসব সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সব ধরনের ফাইল, নথি ও দাফতরিক কার্যক্রমে তার পদবির আগে ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখার উপসচিব তানিয়া আফরোজের সই করা এক পরিপত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’সহ কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপে এই নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করতে বলা হয়।
পরিপত্রটি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব সিনিয়র সচিব ও সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর প্রশ্ন উঠেছে, নতুন নির্দেশনা কি শুধু দাপ্তরিক নথিপত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও আনুষ্ঠানিক সম্বোধনেও এর প্রভাব পড়বে?
এদিকে, ২৪ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) পুলিশ রেগুলেশনস, ১৯৪৩-এর প্রবিধান ৭২৮-এর আলোকে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সালাম ও অভিবাদন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পুলিশ অর্ডার নম্বর-০১/২০২৬ জারি করা হয়েছে। এতে পুলিশ বাহিনীর সব সদস্যকে নির্দেশনাটি যথাযথভাবে অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।
আদেশের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে সালাম ও অভিবাদনের ক্ষেত্রে ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি’ ও ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ সম্বোধন ব্যবহার করা হয়েছে। পরবর্তী অংশে স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির প্রতি সালাম ও অভিবাদনের নির্দেশনাতেও ‘মাননীয়’ শব্দ রয়েছে।
অর্থাৎ, দাপ্তরিক নথিতে সম্মানসূচক শব্দ বাদ দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের পরও পুলিশের আনুষ্ঠানিক সালাম ও অভিবাদন সংক্রান্ত আদেশে পুরোনো সম্বোধন বহাল রয়েছে।
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আশরাফুল হুদা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ এবং ধারাবাহিক ইতিবাচক উদ্যোগের অংশ। অন্যদিকে পুলিশের সালাম ও অভিবাদন অর্ডারে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ থাকাটা অনিচ্ছাকৃত ভুলের অংশ। বিষয়টি কেউ সঠিকভাবে খেয়াল করেননি, তাই অসতর্কতাবশত ঘটে গেছে।
এতে সরকারি নির্দেশনা ও পুলিশের প্রটোকল আদেশের মধ্যে সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশের প্রটোকল আদেশটি সংশোধন করা হবে কি না, নাকি আনুষ্ঠানিক সালাম ও অভিবাদনের ক্ষেত্রে আগের সম্বোধন বহাল থাকবে, এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সদরদপ্তরের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে জনসংযোগ কর্মকর্তা এ কে এম কামরুল আহসান বলেন, ‘অসতর্কতাবশত বিষয়টি হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবগত করব।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন আদেশ ও নির্দেশনায় ভাষাগত সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। এতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বিভ্রান্তি কমে এবং সরকারি সিদ্ধান্তের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত হয়।









