শত অভিযোগের পরও বহাল তবিয়তে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের গবেষণা কর্মকর্তা শফিক উদ্দিন ভূইয়া। তার বিরুদ্ধে বারবার দুর্নীতি আর অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও কোন অজানা কারণ ব্যবস্থা নেওয়া হয় না তার বিরুদ্ধে। উল্টো নতুন নতুন লাভজনক পদ বানিয়ে নেন তিনি।
শফিকের উত্থানটা বাংলাদেশ হাইটেক পার্কে গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের পর থেকে। এরপর রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে শুধুই উপরে উঠে চলা। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পড়াশুনা করা শফিক ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে চাকরি পরীক্ষায় নবম হবার পরও চাকুরি বানিয়ে নেন। সাবেক সংসদ সদস্য ডাঃ সৈয়দ লিপির তদবিরে তিনি চাকরি পান বলে অভিযোগ আছে।
চাকরি পাওয়ার পর শফিকের শুধুই ছুটে চলা। কখনও গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী কৃষিবিদ মশিউর রহমান হুমায়ুনকে তার চাচাতো ভাই পরিচয় দিয়ে। আবার কখনও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমানকে তার বাল্যকালের বন্ধু এবং একসাথে ছাত্রলীগ করতো বলে পরিচয় দিয়েছেন।
তার পরিচয়ের এখানেই শেষ নয়। সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের শ্যালক, কিশোরগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য ডাঃ লিপিকে তার রাজনৈতিক বড়বোন বলে হাইটেক পার্ক এবং আইসিটি বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে পরিচয় দিয়ে নিজের ক্ষমতা জাহির করতো। শর্টকাট সামনে এগোনের সব তরিকা অবলম্বন করেছেন তিনি।
অনুসন্ধান বলছে: শফিক উদ্দিন ভূইয়া জেলা পর্যায়ে আইটি হাইটেক পার্ক স্থাপন প্রকল্প থেকে অনিয়মের মাধ্যমে ২০১৬-১০১৭ অর্থ বছরে ২৫ হাজার ৪৮০ টাকা বেসিক বেতন হিসেবে অবৈধভাবে ৩ লাখ ৫ হাজার ৭৬০ টাকা এবং ২০১৭ -১০১৮ অর্থ বছরে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮০ টাকাসহ মোট প্রায় ৭ লক্ষ টাকা অবৈধভাবে উত্তোলন করেন যার অডিট আপত্তি হলেও তিনি এ পর্যন্ত উল্লেখিত টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেননি।
৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর যেন আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন শফিক। বর্তমান এমডি কে এম আমিরুল ইসলাম যোগদানের পর বর্তমান এমডিকে এম আমিরুল ইসলামকে হাত করে একই ছয়টি অতিরিক্ত পদ দখল করেছেন।
এরমধ্যে রয়েছে: বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নধীন জেলা পর্যায়ে আইটি/হাইটেক পার্ক স্থাপন (১২টি জেলায়) (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প পরিচালক (নবম গ্রেড), ব্যবস্থাপনা পরিচালকের একান্ত সচিব (চতুর্থ গ্রেড), শেখ হাসিনা ইন্ডাস্ট্রিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি” এর মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়ন (শিফট) প্রকল্পের উপ- প্রকল্প পরিচালক (চতুর্থ গ্রেড) পদ না থাকার পরেও ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার এর উপ-পরিচালক (ষষ্ঠ গ্রেড) এবং শফিকের কারিগরি দক্ষতা না থাকার পরেও টেকনিক্যাল শাখার উপ-পরিচালক (পরিকল্পনা) (ষষ্ঠ গ্রেডে) দায়িত্বসহ একসাথে ৬টি পদ দখল করেছেন।
সকল শাখা থেকে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব ভাতা নিয়ে আসছেন।
এর বাইরে শফিক উদ্দিন ১২টি আইটি প্রকল্পের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও নির্মান কাজের টেন্ডার এর মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বিদেশ থেকে ডিউটি ফ্রী ইকুইপমেন্ট আমদানির ক্ষেত্রে ওয়ান স্টপ সার্ভিস শাখা থেকে এনইসি নেওয়ার বাধ্যকতা থাকায় স্যামসাং সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হতে কয়েক ধাপে ২.৫ কোটি টাকা উৎকোচ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বিগত ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দপ্তরে আপ্যায়ন ব্যয় বাবদ ৩৮ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সবচেয়ে আলোচিত দূর্নীতিবাজ সাবেক এমডি বিকর্ণ কুমার ঘোষ এর দূর্নীতির অন্যাতম সহোযোগি এই শফিক উদ্দিন ভূইয়া। হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের জমি ও প্রেস বরাদ্দ দিয়েও তিনি কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
দুর্নীতি অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ থাকার পরেও শফিক উদ্দিন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাকে কেন ৬টি পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে তা জানতে এমডি একে এম আমিরুল ইসলামকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে শফিক উদ্দিন ভূইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন আজ বুধবার আমাদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান। তবে আজ ফোন করা হলে তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।









